• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন |

অবশেষে নাসিরনগরের ওসি প্রত্যাহার

mondirব্রাহ্মণবাড়িয়া: মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, প্রশাসনিক কারণে বুধবার দুপুরে ওসি আবদুল কাদেরকে প্রত্যাহারের এই আদেশ দেয়া হয়।

ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে রবিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত নাসিরনগরে ১৫টি মন্দিরসহ হিন্দুদের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

এদিকে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ঘটনার দিন রাতে ওসি আবদুল কাদের ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহম্মেদের অপসারণ দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগ।

এর আগে ঘটনার পরদিন সোমবার সকালে দুটি মামলা হয়। প্রত্যেক মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০০ থেকে ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল করিম। হামলা-ভাঙচুরের পর আটক নয় জনকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত হয়েছে তিনটি কমিটি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল।

শুক্রবার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাসের ফেসবুক পাতায় একটি পোস্ট নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা জানান।

ফেসবুকে রসরাজ ‘ইসলাম অবমাননা করে’ পোস্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ তাকে শনিবার আটক করে। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই ঘটনা নিয়ে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’ ব‌্যানারে রবিবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয় নাসিরনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে। হবিগঞ্জের মাধবপুরেও ডাকা হয় একই কর্মসূচি।

রসরাজের শাস্তির দাবিতে একদল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ দেখায়। আর কয়েকশ লোক সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, অবরোধ থেকে একদল লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে নাসিরনগর সদরের দত্তবাড়ির মন্দির, নমঃশূদ্রপাড়া মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, ঘোষপাড়া মন্দির, গৌরমন্দির গুঁড়িয়ে দেয়।

উপজেলা সদরের দত্তপাড়া, ঘোষপাড়া, গাংকুলপাড়া পাড়া, মহাকাল পাড়া, কাশিপাড়া, নমসুদপাড়া, মালিপাড়া, শীলপাড়াতেও হামলা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ