দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল এমপি যে মুহুর্তে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গণমানুষের সত্যিকারের সেবক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ও মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, ঠিক সেই মুহুর্তে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষেী মহল তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় নীতি আদর্শের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। যা দলের ভাবমর্যাদা ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ সব মিথ্যা অপপ্রচার করে দলীয় ঐক্যে ফাটল সৃষ্টির অপচেষ্টা করে চলেছেন।
বুধবার (২ নভেম্বর) বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বীরগঞ্জ উপজেলা ১১টি ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে সবার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাকারিয়া জাকার বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে যাতে বলা হয়েছে “এমপি মনোরঞ্জনশীল গোপালের নিয়োগ বানিজ্য, টিআর, কাবিখা ও দুঃস্থদের চাল লুটপাটের কথা কে জানে না। তিনি বলেন, উপজেলা শিবিরের সভাপতি খোদা বক্সকে আলিম মাদরাসায় প্রভাষক পদে চাকরী দেন এই এমপি। জাগপা থেকে আসার কারণে তার কাছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত। জাগপা, জামাত ও বিএনপির লোকদের নিয়ে তিনি থাকেন। জামাত ছাড়াও বিএনপি নেতাকর্মীদের গণহারে চাকরী দিয়েছেন এমপি গোপাল। এর মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেনও রয়েছেন। তাকে একটি কলেজে চাকরী দেয়া হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তারা জাকারিয়া জাকার এ ধরনের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা-ক্ষোভ জানান ও তা প্রত্যাখান করেন। তিনি আরো বলেন, যারা তৃণমূলের নেতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি তারা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বাররা ভাল করেই জানে যে, এমপি গোপালের মাধ্যমে সরকারের সকল নিয়ম-নীতি মেনেই টিআর, কাবিখাসহ অন্যান্য সরকারী বরাদ্দ বিতরণ করা হয়ে থাকে। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করে এমপি গোপালের জনপ্রিয়তার বিন্দুমাত্র বাধাগ্রস্থ করা যাবে না। শিতলাই আলিম মাদরাসার সভাপতি মোস্তাক হোসেন জাকারিয়া জাকার ভাই। মাদরাসার সভাপতির বক্তব্য হচ্ছে মেধার ভিত্তিতেই খোদা বক্সকে নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে মনোনিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জাকারিয়া জাকার চাচাত ভাই। জাকারিয়া জাকা আ’লীগের সভাপতি পদের প্রভাব বিস্তারে মনোয়ার হোসেনকে কলেজে চাকরী দিয়েছেন। সেখানে নিয়োগ বানিজ্য হয়ে থাকলে তিনি তা নিজ দায়িত্বেই করেছেন। হঠাৎ করে তার দায়-দায়িত্ব এমপি গোপালের কাঁধে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। যা খুই দুঃখজনক।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি গোপাল সম্পর্কে জাকারিয়া জাকার এ সব মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগগুলো দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখান করেন। পাশাপাশি যারা দলীয় ঐক্য বিনষ্টের সাথে জড়িত এবং দলীয় আদর্শের বিপরীতে অবস্থান করছেন তাদের প্রতি অনৈক্য ভুলে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাতোর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম শেখ, মোহাম্মদপুর ইউপির চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দেব শর্মা, শিবরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান জনক চন্দ্র অভিকারী, নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল খালেক, পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যার রোস্তম আলী, সুজালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহেশ চন্দ্র রায়, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামিম ফিরোজ আলম, ধর্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, স্বাস্থ্য সম্পাদক কামরুল হাসান জুয়েল, যুব ও ক্রিড়া সম্পাদক ইয়াসিন আলী, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মীর কাসেম লালুসহ ১১টি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।