• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

আজ ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস

জেল হত্যা দিবসসিসি নিউজ: আজ ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতকারী সেনা সমর্থিত চক্রান্তকারীরাই কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাবস্থায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

দেশের সকল আন্দোলনেই এই চার নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অসীম সাহসিকতায় নেতৃত্ব দেন তারা। গঠন করেন মুজিবনগর সরকার। এই জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয় দেশের মানুষ। ঘরে ঘরে তৈরি হয় দূর্গ, পাল্টা আঘাত হানে শত্রুর উপর। নয় মাস যুদ্ধের পর স্বাধীনতা পায় বাংলাদেশ।

ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিম্ন আদালতে তিন জনের মৃত্যুদণ্ড আর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে ফাঁসির দুই আসামীসহ ছয় জনকে খালাস দেয় হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আপিল করেছে সরকার।

জেল হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এর দু বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর এ হত্যার সাথে জড়িত ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিচারকাজ চলার পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

ঐতিহাসিক বহুল প্রতীক্ষিত সেই রায়ে চার নেতা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জনের সাজা হয়। এর মধ্যে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে মামলার তদন্তে পাওয়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নূরুল ইসলাম মঞ্জুর এবং মেজর (অব.) খায়রুজ্জামানসহ ৫ জনকে খালাস ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযুক্ত হয়। জাতীয় চার নেতার স্বজনরা সাক্ষ্য-প্রমাণের বাইরে গিয়ে দেয়া ওই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষণা করে, জেলহত্যা মামলার পুনর্বিচার এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

এবারে জেলহত্যা দিবসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার- বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমগ্র বাঙালি জাতির সাথে সশ্রদ্ধচিত্তে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে শোকাবহ এ দিবসটিকে স্মরণ ও পালন করবে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচি

৩ নভেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার
সকাল ৬টা: বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ।

সকাল ৭ টা: বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।

সকাল ৮টা: বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত।

রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত।

অপরাহ্ণ ৩টা :স্মরণ সভা। স্থান- কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন। স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি।

ওবায়দুল কাদের এমপি’র আহ্বান: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সকল জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন শাখা এবং সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের জনগণকে আগামী ৩ নভেম্বর যথাযথ মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে জেলহত্যা দিবস পালনের জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতির ইতিহাসের কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত এই দিনটি ন্যায়বিচারের আলোয় উদ্ভাসিত হোক। আমরা আলো চাই, অনেক আলো, সেই আলোয় দূর হোক ইতিহাসের যত কালো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ