নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে চলমান জেএসসি পরীক্ষায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জেলার ডোমার উপজেলায় একজন কেন্দ্র সচিব ও দুইজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে এক কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট না থাকার পরেও তাকে অব্যাহতি দেয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন, চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ও উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলার উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মমিনুর রহমান এবং পার্শ্ববর্তী চিলাহাটি গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ।
জানা যায়, উক্ত জেএসসি কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ গত ১ নভেম্বর ২০১৬ জেএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্রের “ক” সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা না নিয়ে “খ” সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহন করা হয়েছে। এর ফলে ওই কেন্দ্রের ৭৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৭৪৭জন পরীক্ষার্থী তাদের পরীক্ষার ফলাফল বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার রাতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের এক নির্দেশে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক আদেশে উক্ত তিন ব্যাক্তিকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে উক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উত্তর কেতকীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীনকে। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা একডেমিক সুপারভাইজার সাফিউল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল শাহজাদাকে। এই তিনজন আজ বৃহস্পতিবার হতে উক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। চিলাহাটি মার্চেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় ও চিলাহাটি গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ চলে আসছে। এরই জেরে প্রশ্নপত্র সেট পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে দাবী করছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে তাদের দাবী উভয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারনে কেনইবা একটি কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবকে স্বপদে বহাল রাখা হলো। কিভাবে শুধুমাত্র বিবদমান ওই দুই কেন্দ্রের একটি কেন্দ্রে “খ” সেটের প্রশ্ন পত্র সরবরাহ করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে। এলাকাবাসী এর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করছেন।