মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী: দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিরাগত আ.লীগ নেতা শিক্ষক আনিছুর রহমানকে পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশে বাঁধা প্রদান করায় শিক্ষিকা অঞ্জনা রানী ও নৈশ্য প্রহরী মিজানুর রহমানকে লাঞ্চিত করেছে। ঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলহাজ এসএম জিন্নাহ্ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুম পাড়ায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে নৈশ্য প্রহরী মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আ.লীগ নেতা আনিছুর রহমান অবৈধ ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্ঠা করে। এ সময় আমি তাঁকে বাঁধা প্রদান করলে তিনি রেগে গিয়ে আমাকে গাল মন্দ করে। এরপরও আমি তাঁকে কেন্দ্রের সচিব এর অনুমতি নিয়ে আসতে বলি। তখন তিনি বেশী রেগে গিয়ে আমার শার্টের কলার ধরে কেন্দ্র সচিবের অফিসের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করে। এ সময় আমি নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্ঠা করলে তিনি আমাকে কিলঘুষি মেরে লাঞ্চিত করেছে। এ সময় শিমুলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষীকা অঞ্জনা রানী সরকারও লাঞ্চিত হয়েছে। বিষয়টি আমি মৌখিক ভাবে কেন্দ্র সচিবকে অভিযোগ করেছি। তিনি দেখবেন বলে আমাকে শান্ত থাকতে বলেছেন ।
কেন্দ্রে ডিউটিরত শিক্ষীকার লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি জানতে মুঠোফোনে অঞ্জনা রানী সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনার সময় আমি কেন্দ্রের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমান আমাকে ধাক্কা দিলে আমি গ্রীলের উপর দিয়ে ছিটকে নিছে পড়ে যায়। ভগবান আমার জীবন ও সমভ্রম রক্ষা করেছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও জানিয়েছেন বলে জানান।
বিরামপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী মিজানুর রহমান ও শিমুলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষীকা অঞ্জনা রানী সরকার লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে ঘটনার মুল হোতা উপজেলার মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি ঘটনাস্থল থেকে জেনে নেওয়ার জন্য এ প্রতিবেদককে নির্দেশ করে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব বিরামপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করলে ও কথা বলার এক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। বিষয়টি মিটমাটের জন্য বসবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম জিন্নাহ জানান,ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে লিখিত কোন অভিযোগ না পাওয়ায় কোন ব্যবস্থা না নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।
টিপিওর নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তার বদলি দাবী করে উপজেলার শিক্ষক ও কর্মচারীরা অভিযোগ করে জানান, যে অভিযোগে মাল আছে টিপিও জিন্নাহর কাছে সেই অভিযোগের বিচার আছে।