• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন |

রংপুরে শিশু গৃহপরিচারিকাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

হত্যারংপুর: রংপুর মহানগরীর শালবন এলাকায় সকিনা (১০) নামের এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, রাতের অন্ধকারে বাড়ির মালিক লাশটি পরিবারের কাছে পাঠিয়ে গোপনে লাশ দাফনের সময় খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত জজকোর্টের পেশকার মানিক মিয়া পালিয়ে গেলেও গৃহকর্তি জাহানারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। সকিনা কাউনিয়া উপজেলার চর চতুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। সকিনার মা কেবলি জানান, মুই কিছু বোঝং না। তোমরা মোর ব্যাটিক আনি দাও।
লাশ উদ্ধারকারী রংপুর নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তানভীর জানান, শালবন মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা রংপুর জজকোর্টের পেশকার মানিক মিয়ার বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে তিন বছর থেকে থাকতো সকিনা।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সকিনাকে আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর লাশটি গ্রামের বাড়ি কাউনিয়ার হারাগাছের চতুর এলাকায় পাঠায় মানিক মিয়া।
বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় এলাকাবাসির কাছ থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, শিশুটিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা জানার জন্য লাশ এ ঘটনায় মানিক মিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে স্ত্রী জাহানারা বেগমকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিভাবকের পক্ষ থেকে মামলা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। পোস্টমোর্টেম রিপোর্ট আসার পর বোঝা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরিকারী কোতয়ালী থানার এসআই শাহ আলম জানান, লাশের শরীরে কোনো মারপিটের চিহ্ন পাওয়া যায় নি।
এদিকে হারাগাছার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি শিশুর লাশ চর চতুর এলাকায় দাফনের জন্য আনা হয়। কিন্তু সেখানে এলাকাবাসি শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে দাফন করতে বাঁধা দিলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়।
খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই এবং লাশ দাফনে বাঁধা দিয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশকে জানাই।
তিনি জানান, এ সময় সেখানে উপস্থিত গৃহকর্তা জজ কোর্টের পেশকার মানিক ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম জানান, আমরা বাড়িতে ছিলাম না। বাচ্চাদের সাথে খেলতে খেলতে সকিনা পড়ে গিয়ে আহত হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সে মারা গেলে তাকে দাফনের জন্য তারা পরিবারের কাছে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসি জানান, ওই বাড়িতে শিশুটিকে কারণে অকারণে নির্যাতন করা হতো। মারপিট করে তাকে হত্যা করে লাশ গোপনে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয় দাফনের জন্য। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ