সিসি নিউজ: জাতীয় অধ্যাপক ও প্রথিতযশা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এম আর খান নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদ উদ্দিন ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
ডা. এম আর খান বাংলাদেশের শিশুচিকিৎসার পথিকৃৎ। তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরার রসুলপুরে। ১৯৫৩ সালে এমবিবিএস পাস করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে। তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিটিএমঅ্যান্ডএইচ, এমআরসিপি, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসিএইচ, ঢাকার পিজি থেকে এফসিপিএস, ইংল্যান্ড থেকে এফআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন।
এম আর খান পেনশনের টাকা দিয়ে গড়েন ডা. এম আর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। দুস্থ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, তাদের আর্থিক-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এ ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় পর্যায়ের শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন।
তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। গড়ে তুলেছেন সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপুর উচ্চবিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া তিনি দেশ থেকে পোলিও দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছেন, কাজ করেছেন ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান ‘আধূনিক’-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে।
প্রধানমন্ত্রীর শোক: জাতীয় অধ্যাপক ও শিশুরোগ বিষেশজ্ঞ ডা. এম আর খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডা. এম আর খানের মৃত্যুতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান মারা যান। (ইন্না…রাজিউন)। এম আর খান নামে পরিচিত হলেও এই জাতীয় অধ্যাপকের পুরো নাম মো. রফি খান। দীর্ঘ তিন মাস ধরে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শিক্ষা, চিকিৎসা, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, দুর্গত অসহায় মানুষের সেবাসহ সমাজকল্যাণমূলক কাজে অসামান্য অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ডা. এম আর খানকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী স্বর্ণপদক দেয়।