• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন |

কুড়িগ্রামের দুর্গম চরে ডিজিটালের হাওয়া

chilmari-12-11-16হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) : বিস্তীর্ণ চরে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে চরাঞ্চরের মানুষ। জেলা, উপজেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরগুলোকে এক সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন দ্বীপ বলা হতো। এখন আছে ইন্টারনেট সুবিধা ও বিদ্যুত ব্যবস্থা। উন্নতি ঘটেছে রাস্তাঘাট, ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেও আর সব সম্ভব হচ্ছে সরকারের সহযোগীতায়। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও এর সহযোগীতায় পরিবর্তন হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের পথ চলা। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সরকারের যহযোগীতায় দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে চিলমারী। উন্নয়নের ছোয়ায় পাল্টে যাচ্ছে দৃস্যপট সেই সাথে টিআর কাবিখা প্রকল্পে সোলার প্লান্টে পাল্টাছে মানুষের জীবনযাত্রা। বিদায় হচ্ছে হারিকেন, বিদায় কেরোসিনের কুপি। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ছোঁয়া এখন দুর্গম চরেও। কেরোসিনের বাতি আর হারিকেনের পরিবর্তে ঘরে ঘরে এখন জ্বলছে সৌরবাতি। সোলারের আলোয় আলোকিত হচ্ছে আধুনিক সুবিধাবঞ্চিত ব্রহ্মপুত্রের চরের মানুষ। সৌর বিদ্যুতের আলো রাতের অন্ধকার দূর করছেন চিলমারীর দুর্গম ব্রহ্মপুত্রের চরে। বদলে যাচ্ছে চরের মানুষের জীবনযাত্রা। দুর্গম চরাঞ্চল এখন অনেকটা আধুনিকতার ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত হয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতি পাল্টাতে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন।
শুধু অন্ধকার নয়, শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এ জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে অবদান রাখছে এই সৌর বিদ্যুত। সোলারের আলোয় আলোকিত হয়ে শিক্ষার্থীরাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার মান উন্নয়নে। সোলারের বদৌলতে গ্রামীণ জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোবাইল, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ নানা সুযোগ সুবিধা। ইউনিয়ন পরিষদ এবং ব্যক্তিগতভাবে ইন্টারনেট সুবিধা ছড়িয়ে পড়েছে অবহেলিত ব্রহ্মপুত্রের চরে। ইন্টারনেট সুবিধা, রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কারণে পাল্টে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদীর চরাঞ্চলের চেহারা আর তা সম্ভব হচ্ছে টিআর, কাবিখাসহ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প আর সহযোগীতায়। গত কয়েক বছরে এই চরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। চিলমারীর ব্রহ্মপুত্রের নদীর এই চরে রয়েছে নয়ারহাট, অষ্টমীরচর ও চিলমারী ইউনিয়ন। জেলা বা উপজেলা শহরের মতো বিদ্যুত প্লান্টে যান্ত্রিক সমস্য, লোডশেডিং ও লো-ভোলটেজ বিড়ম্বনা নেই ব্রহ্মপুত্রের চরে। দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুত পাচ্ছে সৌর প্লান্টের মাধ্যমে। সরকারের সফল চেষ্টা আর সোলার প্রকল্পে মাধ্যমে চলাঞ্চলবাসীসহ গরীব দুঃখিদের জীবনযাত্রা দিন দিন পাল্টে তাদের জীবনে লেগেছে ডিজিটালের ছোয়া। সরকারী এই সহযোগীতা শুধু বাসাবাড়িতে নয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মসজিদ,মন্দিরের লাগছে সোলারের সোয়া। নয়ারহাট খেরুয়ার চরের সুবিধা ভুগি ছামিউল তোলাসহ বিভিন্ন চরের সুবিধাভুগিরা বলেন আমরা কখনো ভাবিনি কেরোসিন কিনতে হবে না আজ আমরা খুব সুখে আছি। নেই ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা আর অন্ধকারের ঝামেলা। সরকারের দেয়া এই সোলার আমাদের দেখাচ্ছে সুখের ঠিকানা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ সিরাজুদৌলা বলেন পরিবার প্রতি ২০ ও  ৩০ ওয়াটের একটি সৌর প্যানেল এবং মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৩০ থেকে ৬৫ ওয়াড ছাড়াও এসি সোলার ৩০০ থেকে ১২০০ ওয়ার্ড পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে এছাড়াও সরকারের সহযোগীতায় দিনদিন উন্নয়ন হচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে। চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শওকত আলী সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের সরকার। এটাই তার একটা বড় প্রমান। তিনি আরো জানান, এই প্রকল্প থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানো হচ্ছে। রাতের বেলায় এখন আর চরবাসীকে ‘হারিকেন’ কিংবা কুপি বাতি জ্বালাতে দেখা যায় না। সোলার বিদ্যুতের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে চরের মানুষ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, অতীতের চেয়ে বর্তমান সময়ে চরাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সোলার প্যানেল চরের মানুষের দীর্ঘ দিনের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। উপজেলা বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে সোলার প্রকল্প শুরু হয় ২০১৪-১৫ অর্থ বছর থেকে। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২৩৮ টি সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ২৪২ টন চাল/গম ও ৪৪ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪২৪ টি সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ২৪০.৫ টন চাল/গম ও ৫৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ