• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন |

উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে সৈয়দপুরের দৃশ্যপট

সৈয়দপুরএম আর মহসিন: সৈয়দপুরে যানজট মুক্ত পরিচ্ছন্ন শহরে রুপায়নে কাজ শুরু হয়েছে। গত সোমবার সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার স্থানিয় সরকারের মিউনিসিপাল গভার্নেন্স এন্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট এর আওতায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের ফোর লেন সড়ক ও ড্রেন নির্মান  কাজ উদ্বোধন করেন। এছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং পৌরসভা মিলে এ শহরে আরো বেশ কয়েকটি ব্যয় বহুল নতুন সড়ক নির্মানের পরিকল্পনা করেছেন। যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে উত্তরের জনপদটির নতুন সড়ক সংযোগে মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। আলোকিত হয়ে নতুন রুপে সাজছে শহরটি।
সূূত্রমতে, সারা দেশের সাথে সৈয়দপুর শহরের আছে আকাশ,রেল ও সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে এ শহরের পার্শ¦বর্তী এলাকায় উত্তরা ইপিজেডসহ নানা রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি এ শহরের ঢেলাপীর নামক এলাকায় নতুন একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পদক্ষেপ সংশ্লিষ্টরা। যা বাস্তবে রুপদানে গত বছর ভারতীয় একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে গেছেন। ২০১২ সালে ভুটান সরকারের একটি প্রতিনিধি দল সৈয়দপুর বিমান বন্দর পরিদর্শন করেন। এ বিমানবন্দর কে আন্তজার্তিক রুটে পরিণত করে ট্রানজিটের মাধ্যমে এ দেশের সাথে ব্যবসায়িক মৈত্রিকরণে সু-সম্পর্ক স্থাপন করবেন। তাই এ বিমান বন্দরকে আন্তজার্তিক রুপ দানে প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। এছাড়া ঐতিহ্যবাহি রেল কারখানাসহ ব্রিগেড সেনাবাহিনী এলাকার কারনে প্রতিনিয়ত দেশি বিদেশি ভিভিআইপিরা আসছেন। এতে এ শহরের  সংকীর্ন সড়ক আর  অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যাবস্থাপনা গুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।  চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারিদের। এ দৃশ্য অবলোকন করেই এ অবস্থা  মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্টরা  হাতে নেয় এ শহর উন্নয়নের কার্যক্রম।
সৈয়দপুর পৌরসভা সুত্র জানায়, শহরের অভ্যন্তরে নতুন ড্রেন, পুরনো সড়ককে বর্ধিত করে ফোর লেনে উন্নিত, নতুন সড়ক নির্মানসহ এর মধ্যখানে লাইটিং ব্যবস্থা। এসব বাস্তবায়নে শুরু গত ৭ নভেম্বর পাঁচ মাথা মোড় হতে পার্বতীপুর রোড, বিমানবন্দর হতে পার্ক মোড় পর্যন্ত ৩৪৫০ মিটার সড়ক প্রশস্ত করন, ফুটপাত, ডিভাইডার, স্ট্রীট লাইট স্থাপনে নির্মান কাজ শুরু হয়। বর্তমানে দ্বিগুন প্রশস্ততা করতে সড়ক ও ড্রেন নির্মানে ব্যবহার হচ্ছে স্কেবেটর মেশিন। ৫ ফুট গভীরতা ৫ ফুট প্রশস্তের ২৭১০ মিটারের দীর্ঘ উভয় ধারের ড্রেনে নির্মিত হবে ফুটপাত। যার দায়িত্বে রয়েছেন আরএবি আরসি প্রাইভেট লিঃ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শাহনেওয়াজ শানু জানান, সিডিউল অনুযায়ী শতভাগ উপকরন দিয়ে বরাদ্দকৃত সময়েই ইনশাল্লাহ কাজ শেষ করে কতৃপক্ষকে হস্তান্তর করতে পারব।
এদিকে, সড়ক ও জনপদের প্রধান মহাসড়কটি এ শহরের প্রান কেন্দ্র দিয়ে যাওয়ায় এ সড়ককে সম্প্রসারন করে ফোর লেনে পরিণত করতে সংম্লিষ্টরা গত  সোমবার হতে রাস্তার উভয় পার্শ্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছেন। তবে উচ্ছেদে হতাশায় না পড়ে শুধু বর্ধিত সড়কের জন্য এ অভিযানে শহরবাসি স্বতস্ফুর্ত ভাবে সহযোগিতা করছেন।
এরপর পরেই এটি বর্ধনে নির্মান শুরু করা হবে বলে জানান নীলফামারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম হামিদুল হক।
আকাশ পথে এ শহরে প্রবেশকারীরা সড়ক পথে যাতে সহজে গন্তব্যে ফিরতে পারে এর জন্য বিমানবন্দর হতে রাবেয়া মিল পর্যন্ত ভিভিআইপি একটি সড়ক নির্মান পরিকল্পনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এটি নির্মান হলে আকাশ পথে বিভিন্ন প্রান্তের আগমনকারীদের সৈয়দপুর বিমানবন্দর নিয়ে আগ্রহ বাড়বে বলে জানান সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ম্যানেজার শাহিন আহমেদ।
সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, এ শহরকে নিয়ে পৌর মেয়রের অনেক উন্নয়ন মুলক পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে পাচ মাথা মোড় হয়ে রাবেয়া মিল পর্যন্ত নতুন সড়ক, এলএসডি গোডাউন হতে মরিয়ম চক্ষু হাসপাতাল এবং বাঙালীপুর হতে দারুল উলুম পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। যাহা শুরুর প্রক্রিয়ায় আছে।
এতে আলোকিত ও মুুক্ত যানজটে প্রান খোলা পরিবেশ তৈরী হবে এ শহরের।  উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থাপনায় বাড়বে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, তৈরী হবে নতুন নতুন কারখানা। জুটবে লক্ষ-লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান। এতে পাল্টে যাবে ভাগ্য। এমনি প্রত্যাশায় এ জনপদের বাসিন্দারাও নতুন সড়কে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন আঁকছেন ।
এ নিয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টিতে আমরা অনেক কাজ পেয়েছি। এ কাজ গুলো বাস্তবায়ন হলে এ পৌর শহরটি স্বপ্নের শহরে পরিণত হবে। তাই আমাদের চেষ্টা অব্যহত আছে।

ছবি: মিজানুর রহমান মিলন (ফেসবুক থেকে নেয়া)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ