• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন |

প্রত্যাশা নয় হতাশা: ফুলবাড়ীতে সমবায় সমিতির কোটি টাকা আত্মসাত!

আত্মসাতফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রত্যাশার আলো নামে এক সমবায় সদস্যদের সঞ্চয়কৃত প্রায় কোটি টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। সমবায় সমিতিটির সাধারন সম্পাদক মনির খানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছেন সমিতির সভাপতি শাহাজাদ আলী।
সূত্রমতে, সমিতির সাধারন সম্পাদক মনির খান সমিতির টাকা আত্মসাতসহ ওই টাকা দিয়ে দাদন ব্যবসা করাছেন। তার দাদন ব্যবসার রোসানলে পড়ে সর্বসান্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার অর্ধশত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ব্যবসা হারিয়ে এখন দাদন ব্যবসায়ীর মিথ্যা মামলার ঘানি টানছেন।
ভুক্তভুগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, পৌর বাজারের প্রত্যাশার আলো সমবায় সমিতি লিঃ (রেজিঃ-১১৫) এর সাধারন সম্পাদক কাটাবাড়ী গ্রামের হোসেন খাঁ এর ছেলে মনির হোসেন খান। সমবায় সমিতির ঋন দেয়ার নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে জামানতের কথা বলে বিভিন্ন ব্যাংকের ফাঁকা চেক জমা নেয়। এখন ওই চেকে মোটা অংকের টাকা লিখে  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নামে একের পর এক মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলার ঘানি টানতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন সর্বসান্ত হয়ে পড়েছে।
পৌর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভুক্তভুগী নন্দলাল শাহা বলেন, গত ২০১৪ সালে  প্রত্যাশার আলো সমবায় সমিতি থেকে পূবালী ব্যাংকের একটি ফাঁকা চেক জামানত রেখে ৫০ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করেন। সেই ঋন প্রতিদিনের  কিস্তিতে পরিশোধ করার পরেও গত ২০১৫ সালে তার নামে ৯৬ হাজার টাকার মামলা দায়ের করেন। এখন সেই মামলাটি আদালতে বিচারাধিন আছে। একই কথা বলেন ভুক্তভুগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, আল মামুন বাবু, আজিম সরকার।
এদিকে প্রত্যাশার আলো সমবায় সমিতির সভাপতি শাহাজাদ আলী বলেন, প্রত্যাশার আলো সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক সমিতির নামে দাদনব্যবসা শুরু করে। এ কারনে তিনি সমিতির হিসেব চাইলে সমিতির সাধারন সম্পাদক সমিতির কার্য্যলয় থেকে সমিতির মুল্যবান কাগজপত্র ও সম্পদ রাতের অন্ধকারে বাড়ীতে নিয়ে যায়। এমন কি সমিতির সাইবোডটিও খুলে নিয়ে যায়। শাহাজাদ আলী বলেন, সমিতির সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন খান সুধু সমিতির নামে অবৈদ্য ভাবে দাদন ব্যবসায় করেনি, সে সমিতির প্রায় এক কোটি টাকা ও সম্পদ আত্মসাত করেছে।
অপরদিকে সমিতির সাধারন সম্পাদক সমিতির টাকা ও সম্পদ আত্মসাত করায় মাথায় হাত পড়েছে সমিতির সঞ্চয়কারী সদস্যদের, তাদের সঞ্চয়কৃত টাকা ফেরত পাওয়া এখন অনিশ্চিৎ হয়ে পড়েছে। এই বিষয়ে সমিতির সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন খানের সাথে কথা বলার জন্য, তার মুঠো ফোনে বার বার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোনটি ধরেন নি। তবে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ