মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুরে হালকা শীত পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে শীতের কাপড় বেচা-কেনা। দিনে রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পর শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরেও বেশ ঠান্ডা। তবে শীত মোকাবেলায় চলছে আগাম প্রস্তুতি।
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২১ হাজার ৬৭০ পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পেয়েছে দিনাজপুর জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান বিভাগ।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস মনে করছে এবার শীতের তীব্রতা গত বছরের তুলনায় বেশী হতে পারে। তবে এখনো তা পুরোপুরি বলা যাবেনা।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দিনাজপুর জেলায় শীত অনুভুত হতে শুরু করেছে। কাপড় ব্যবসায়ীরা শীতের কাপড় বিক্রি শুরু করেছেন। শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে সন্ধ্যার পর হকাররা শীতের কাপড়রের পসরা সাজিয়ে বসছেন। বেচা কেনাও হচ্ছে। সন্ধ্যার পর মানুষ হালকা শীতের কাপড় পরে বাইরে বের হচ্ছেন। রাত ৯টার মধ্যে শহর প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুর হকার্স মাকেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন জানান, তারা শীতের জন্য কাপড় ও পুরাতন কাপড়ের গাইড আনতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তারা গাইড ভেঙ্গে বেচা-কেনা শুরু করেছেন। ক্রেতারও আসছে হকার্স মার্কেটে।
তবে প্রশাসন বা অন্য কারো পক্ষ থেকে আগাম শীতবস্ত্র বিতরণের কোন আলামত এখন পাওয়া যাচ্ছেনা। বিগত বছরগুলোতে অনেক সময় আগাম শীতবস্ত্র বিতরণের প্রবনতা দেখা যেত। প্রচন্ড শীতের সময় তড়িঘড়ি করে শীত বস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে অনেক সময় সঠিকভাবে তা বিতরণ হয়না। আবার দাম বেশী হওয়ায় মানসম্মত শীতবস্ত্র বিতরণ হয়না।
দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র অফিস সহকারী মো. তজিবর রহমান জানান, দিনাজপুরে তাপমাত্রা ২১ থেকে ২২ ডিগ্রীর মধ্যে উঠা নামা করছে। তবে এবার দিনাজপুরে গতবারের চেয়ে শীত বেশী পড়তে পারে। বৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
শহরের ঘাসিপাড়া এলাকার ময়না (৪০), মো. আলাউদ্দিন (৬০), নজরুল ইসলামসহ (৫০) আরো কয়েকজন জানান, গত বছর তারা যেসব শীতবস্ত্র পেয়েছিলেন তা খুবই নিম্নমানের হওয়ায় তা গত বছরেই ছিড়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য একটু ভালমানের শীতবস্ত্র প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান অধিদপ্তর কর্তৃক জেলার ১৩টি উপজেলার জন্য ২১ হাজার ৬৭০ পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দপ্রাপ্ত শীতবস্ত্র ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে পৌছতে শুরু কয়েছে। এবারের বরাদ্দের মধ্যে সদর উপজেলায় ২ হাজার ৫০৭ পিস, বিরল উপজেলায় ১ হাজার ৮৮৪ পিস, বোচাগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ পিস, কাহারোল উপজেলায় ১ হাজার ৩৫০ পিস, বীরগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৫০৩ পিস, খানসামা উপজেলায় ১ হাজার ৫৪২ পিস, চিরিরবন্দর উপজেলায় ২ হাজার ৯৫ পিস, পার্বতীপুর উপজেলায় ২ হাজার ৬৪২ পিস, ফুলবাড়ী উপজেলায় ১ হাজার ২০২ পিস, বিরামপুর উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ পিস, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৬৩৭ পিস, হাকিমপুর উপজেলায় ৮০৮ পিস ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১ হাজার ৩০ পিস শীতবস্ত্র রয়েছে।