• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে বাল্যবিয়ের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রীর ইউএনও অফিস ঘেরাও

1সিসি নিউজ: নিজের বাল্যবিয়ের প্রতিবাদ করে আলোচনায় এলো নীলফামারীর সৈয়দপুরের আইসঢাল খিয়ারপাড়া আলিম এন্ড ভোগেশনাল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী নুর নাহার। সহপাঠিদের সাথে নিজের বাল্যবিয়ের জন্য বাবা-মা এবং বিয়ের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। আর এতেই ঘটেছে বাল্যবিয়ের শিকার নুর নাহারের বিপত্তি। উঠতে পারছেনা নিজ বাড়িতে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বাড়িতে হচ্ছে তার রাত্রিযাপন।
সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিনপাড়ার নবিউল ইসলামের একমাত্র মেয়ে নুর নাহার। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত নুর নাহার ওই মাদ্রাসায় প্রথম স্থান বরাবরেই অক্ষুন্ন রেখেছে। বুধবার রাতে বাল্যবিয়ের কথা জানতে পেরে সে বিষয়টি মাদ্রাসার প্রধানকে অবহিত করে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আফজাল বিন নাজির তাৎক্ষনিক ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়েটি বন্ধ হয়। কিন্তু ভোর রাতে নুর নাহারের বাবা-মা ঘুম থেকে তুলে প্রায় ৩ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে নিয়ে জোর পূর্বক তার বিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার নুর নাহার মাদ্রাসায় এসে কান্নাকাটি করলে বাল্যবিয়ের কথাটি চাউর হয়ে পড়ে। সহপাঠিরা এর প্রতিবাদে ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে মানববন্ধন করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্মারক লিপি প্রদান করে।
নুর নাহার জানান, রাতে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমার বাবা-মা আমাকে বিয়ে দিবেনা বলে অঙ্গিকার করলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাই। ভোর রাতে তারা আমাকে ঘুম থেকে তুলে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে একটা অজানা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে নিকাহনামা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এক প্রশ্নের জবাবে নুর নাহার সিসি নিউজকে জানায়, আমি বরকে চোখে দেখিনি কিংবা তার বাড়ি কোথায় তা জানিনা।

3মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আফজাল বিন নাজির সিসি নিউজকে বলেন, মেয়েটির এর আগে তিন বার বিয়ে বন্দোবস্ত করেছিল তার বাবা-মা। কিন্তু প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েটি মেধাবী। সে প্রাথমিকে ট্যালেন্টেপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাছাড়া ক্লাসের প্রথম স্থান অধিকারী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় এসে সে কান্নাকাটি করলে তার সহপাঠিরা একত্রিত হয়ে উপজেলা পরিষদে গিয়ে বাল্যবিয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে নুর নাহারের বাড়িতে যাই। তাদের পরিবারের লোকজনকে বুঝিয়ে বলি এবং তারা বিয়ে দেবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। তারপরও রাত তিনটা পর্যন্ত ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও আমি নিজেই পাহারা দিই। এরপর ভোর রাতে অন্য জেলায় নিয়ে গিয়ে মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম সিসি নিউজকে জানান, ইউএনও স্যার বিষয়টি অবগত করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ