• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন |

ডিমলায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধু কোলের শিশুকে ফিরে পেতে চায়

parvin-1ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এক গৃহবধুঁ তার স্বামী-শাশুড়ী- ভাশুড়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রায় ২৪ ঘন্টা ধরে যন্ত্রণায় ছটফট হাসপাতালের বিছানায়।

জানা যায়, নির্যাতনের শিকার গৃহবধুঁ উপজেলা খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া সরকার পাড়া গ্রামের জামিয়ার রহমানের কন্যা পারভীন আক্তার (২২)। একই গ্রামের হামিদুল ইসলামের পুত্র আবু সামাদের সাথে পারিবারিক আলোচনায় আনুষ্ঠানিক ভাবে পারভীন-সামাদের বিয়ে সু-সম্পন্ন হয়। এ সময কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা জামিয়ার রহমান জামাইকে উপঢৌকন হিসেবে প্রায় ২ লাখ টাকা নগদ প্রদান করেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় পারভীন গর্ভে ধারন করে একটি শিশু। গর্ভে সন্তান আসার সাথে সাথেই স্বামী শাশুড়ী ও ভাশুড়ের অত্যাচার বেড়ে যায় আমার উপড় বলে জানায় গৃহবধু পারভীন। কেন তারা নির্যাতন করতে থাকে উত্তরে পাশে থাকা তার মা বিউটি বেগম জানালেন, আমরা বিয়ের সময় ২ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা দিতে পারিনি। তবে জামাইকে বলেছিলাম এবারে ধান কেটে দিবো। কিন্তু তার অপেক্ষা না করেই আমার মেয়ের প্রতি নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। এই নির্যাতনের শিকার হয়েও শশুড় বাড়ী ছাড়তে রাজি হয়নি আমার মেয়ে। এত নির্মম নির্যাতনের মধ্যে দিয়েও শশুড় বাড়ীতেই পারভীনের গত ০১ মাস হলো জন্ম নেয়  শিশু রিমন ( বয়স- ০১ মাস) । পারভীন-সামদের সংসারে আলো জ্বালিয়ে পৃথিবীতে আসে শিশুটি। তারপরও নির্যাতনের মাত্রা এতটুকু কমেনি পারভীনের উপড়। ঘটনার দিন গত ২৫ নভেম্বর দিনগত রাতে গৃহবধুঁর ভাশুড় মোঃ মশিয়ার রহমান ঐ টাকার জন্য তাকে এলাপাতারী মারধর করেন ফলে পারভীনের চোখে প্রচন্ড আঘাত লাগে। ঘটনা বেগতিক দেখে স্থানীয় লোকজন নির্যাতনের শিকার গৃহবধুঁ পারভীনকে উদ্ধার করে ডিমলা হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। কিন্তু ঘটনার সময় কোলের ১ মাস বয়সী শিশু রিমনকে গৃহবধুঁর সাথে নিয়ে আসতে চাইলে শিশুটিকে কেড়ে নিয়ে স্বামী-শাশুড়ী বাড়ীতেই রেখে দেয়। হাসপাতালের ভর্তি হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘন্টা পেড়িয়ে গেলেও কোলের শিশুকে ফিরে পায়নি গৃহবধু পারভীন। এদিকে কোলের শিশুকে ফিরে না পেয়ে বুকের দুধ খাওংয়াতে না পেরে যন্ত্রণায় ছটফট করছে গৃহবধুঁ পারভীন।

এ ব্যাপারে উক্ত ইউপির ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। তবে এখন শুনলাম দেখি কি করা যায়। নির্যাতনের শিকার গৃহবধুঁর আকুতি যেভাবেই হোক আমার কোলের শিশুকে ফিরে চাই। ঐ পাষন্ডদের হাত থেকে আমার সোনামেিনকে এনে দেন আমি যন্ত্রণায় ছটফট করছি। কথাগুলি বলছে আর দু’হাত তুলে মাথায় আঘাত করছে ডিমলা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা গৃহবধুঁ পারভীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ