সিসি ডেস্ক: ধর্ষিত হওয়ায় বাহুবলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে শাহজালাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে চলতি বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সে। গত ১৯শে জুলাই ভোরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা বাহুবল মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার ও আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। কিন্তু ধর্ষক পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চিচিরকোট গ্রামের ওই শিক্ষার্থী নতুনবাজার শাহজালাল উচ্চবিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গরিব শ্রমজীবী পরিবারের ওই ছাত্রীদের বাড়িতে পরিচয়ের সূত্রে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতো পাশের হিমারগাঁও গ্রামের সিদ্দিক আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম। সে ওই ছাত্রীকে ঢাকায় নিয়ে ভালো বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। ১৯শে জুলাই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে ফাতেমা বেগম। পরে তাকে তুলে দেয় যশপাল গ্রামের জাহির হোসেন (৩৫) ও একই গ্রামের সামছুদ্দিন প্রকাশ সামছু প্রকাশ সমশের উদ্দিনের (৩২) হাতে। তারা সারা দিন একটি পিকআপভ্যানে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে সানি ফার্নিচার মার্টে রাতযাপন করে। রাতে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ওই ছাত্রীকে অন্যত্র পাচারের চেষ্টাকালে বাজারের পাহারাদারের হাতে আটক হয়।
ধর্ষিতার পিতা জানান, ঘটনার পর আমি আমার মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী নিষেধ করেন। পরে আমার মুরুব্বিসহ স্থানীয় লোকজন এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করলে প্রধান শিক্ষক একই কথা বলেন। পরে প্রধান শিক্ষকের কথামতো আমি আমার মেয়েকে ঘটনার পর থেকে প্রাইভেট শিক্ষকের মাধ্যমে বাড়িতেই লেখাপড়া করিয়েছি। বার্ষিক পরীক্ষা ঘনিয়ে আসায় আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে জানান, ‘বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি আমার মেয়েকে ছাড়পত্র দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তাকে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিতে পারছেন না।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় মুরুব্বি অরুণ চক্রবর্তী জানান, মেয়েটিকে স্কুলে লেখাপড়া ও পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেছি। প্রধান শিক্ষক আমাদের বলেছেন, মেয়েটি বিদ্যালয়ে গেলে এর প্রভাব অন্য ছাত্রছাত্রীদের ওপর পড়বে। তাই বৃহত্তরে স্বার্থে তাকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী মোবাইল ফোনে জানান, ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে ম্যানেজিং কমিটি ওই ছাত্রীকে ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তাকে ২৮শে নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া যায়নি।