• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন |

বাংলার মাটিতে রয়ে গেছে পাকিস্থান জিন্দাবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ৪৬বছর পার হলেও পাকিস্থান জিন্দাবাদ কথাটি থেকে গেছে এই বাংলার মাটিতে একটি শত বছরের বেশি পুরাতন ইন্দ্রার নাম ফলকে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে আজোও বাংলার মাটিতে পাকিস্থানের শ্লোগান রয়ে গেছে। দ্রুত ইন্দ্রাটি সংস্কার করে জয়বাংলা শ্লোগান ব্যবহারের দাবী জানিয়েছে স্থানীয়বাসিন্দারা। পাকিস্থানের জাতীয় পতাকার প্রতিক চাঁদতারা অঙ্কিত ফলকে পাকিস্থান জিন্দাবাদ-মালীক ভোলা মামুদ। ১৩১৩ চৈত্র মাস। মেরামত ১৩৫৭। গ্রামবাসী ও ইউনিয়ন বোর্ড। সৈয়দ উদ্দিন সরকার, পিইউবি লেখা একটি ১১০ বছর আগে তৈরি করা কুয়ার গায়ে। এই কুয়াকে ঘিরে ইন্দ্রার পাড় নামে পরিচিত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারি গ্রামে।
এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুর (৮৪), নজরুল ইসলাম(৮১)সহ আরও অনেকে  জানান, এই এলাকায় বৃটিশ আমলে পানির সংকট ছিল। আর সেই সংকট দূর করার জন্য মৃত ভোলা মামুদ নিজ উদ্যোগে আধাশতক জায়গায় একটি কুয়া তৈরি করেন। সেই থেকে আজ অবধি এই কুয়ার পানি শুকিয়ে যায়নি। এই কুয়ার পানি দিয়ে এখানকার মানুষ খাবার, গোসলসহ সাংসারিক কাজে এখনও ব্যবহার করে যাচ্ছে। তারা আরও জানান, বাংলার ১৩৫৭ সনে এই কুয়াটি পাকা করা হয়। প্রায় ৭-৮ বছর আগে কুয়াটির চারপাশ পাকা করা হলেও ফলকটি পরির্বতন করা হয়নি। আর যার ফলে বাংলাদেশ স্বাধীনতার এত বছর পরেও এখানে পাকিস্থান জিন্দাবাদ কথাটি থেকে গেছে।
গৃহিনী ছকিনা বেগম(৪৯) জানান, বাহে হামার  বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি এই কুয়ার পানি খাওয়া থেকে শুরু করে সব কাজেই ব্যবহার করেছে। এলা বাড়ি-বাড়ি কল হওয়াতে  কুয়ার পানি আনতে আর আগে মতো ভীড় জমায় না। কুয়ার পাশ^বর্তী বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত আলী জানান, ভোলা মামুদ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই এলাকা থেকে তার পরিবার নিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর আমরা শুনতে পারি ভোলা মামুদ মারা গেছে। এছাড়া তাদের আর কোন খবর জানা নেই আমাদের কাছে। পাকিস্থান জিন্দাবাদ শব্দটি এখনও আমাদের পবিত্র বাংলার মাটিতে থাকায় খুব কষ্ট লাগছে। বিষয়টি সবাই জানার পরেও কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি এতদিন। তবে আমরা এলাকাবাসী সরকারের কাছে অুনরোধ করি এই শত বছরের পুরাতন প্রাচীনতম ইন্দ্রাটি সংস্কারের দাবী করে পাকিস্থান জিন্দাবাদ শব্দটি তুলে জয়বাংলা শ্লোগান ব্যবহার করা হোক।
এ ব্যাপারে  কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন জানান, বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে খোঁজখবর নিয়ে শত বছরের পুরাতন প্রাচীনতম কুয়াটা সংস্কার করে নাম করণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে পরিষদের পক্ষ থেকে।
এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ ঊরাঁও জানান, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ কখনও জানায়নি। তবে এখন জানলাম দ্রুত বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সংঙ্গে আলোচনা পদক্ষেপ নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ