পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক ভাবে পাতি-হাঁস প্রতিপালন করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার গদাইপুর আদিবাসী গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবক বিকাশ চন্দ্র সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষে কয়েক বছর চেষ্টা করেও চাকুরী না পেয়ে জোর দেয় হাসঁ প্রতিপালনে। প্রথম দফায় সাফল্য পাওয়ায় আর পেছনে তাকাতে হয়নি বিকাশের। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ মার্ষ্টাস ডিগ্রী লাভের পর আর দশ জনের মতই চাকুরী নামের সোনার হরিনের পেছনে ছুটেও একটা চাকুরী খুঁজে পাননি তিনি। অবশেষে গত বছর বাবার কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেন পাতি-হাঁসের চাষ। শুরুতেই বাজিমাৎ, আশাতীত লাভে দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে এবার পুকুরে মাছ আর পুকুর পাড়ে হাঁস, এক খরচে দু’টি লাভ। এভাবেই সাফল্যের সিঁড়ি খুঁজে পান বেকার যুবকদের মডেল হাঁস পালক এই বিকাশ। শুধু যুবকরাই নন, বিকাশের এমন ঈর্ষনীয় সাফল্যের এই হাঁস-খামার দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন নানা বয়সের মানুষ। আর দিয়ে যাচ্ছে সবাইকে পরামর্শ, তাঁর সাফল্য দেখে আর পরামর্শ পেয়ে অনেক যুবক গড়ে তুলছে এমন হাঁসের খামার। এক সময় যে বিকাশ চাকুরীর পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়েছিল সে নিজেই এখন কর্মসংস্থানের কারিগর। প্রথম দফায় ৩ হাজার হাঁস দিয়ে শুরু করলেও এখন তার খামারে ৯ হাজার হাঁস। আর এ খামারের হাঁস দেখভাল করতে ইতোমধ্যে নিয়োগ করেছেন বেশ ক’জনকে। অপর দিকে বিকাশ বলেন একই পুকুরে হাঁস-মাছ চাষ করি, মাছের চেয়ে হাঁসের প্রতি লক্ষ বেশি রাখি। এক সময়ের বেকার যুবক বিকাশ তার সাফল্যের পেছনে নিজের উদ্যম আর পরিশ্রমসহ পরিবারের উৎসাহ এবং সংশ্লিষ্ট প্রানী সম্পদ বিভাগের সহযোগীতার কথা স্বীকার করে জানান, হতাশাগ্রস্থ যুবকরা তার কাছে আসলে তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন উজ্জীবনী শক্তি বর্ধকের মতই। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো: মামুনুর রশিদ বলেন তাকে হাঁসের খামার করতে পরামর্শ দেয় এবং বিকাশ খামার করে, বর্তমানে আমার প্রানি সম্পদ বিভাগ খামারের সকল পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। মেধা,পরিশ্রম আর অর্থের সমন্বয় ঘটিয়ে যে কোন কাজেই সফলতা সম্ভব তার উদাহরণ বিকাশ।