শরীফুল ইসলাম, চাঁদপর: চাঁদপুর শহরের শ্রী শ্রীমাৎ স্বামী সরূপানন্দের জন্মভূমি অযচক আশ্রমে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ই-হক কোচিং সেন্টারের মুসলিম শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক অংশ্রগ্রহণে বাধ্য করায় তাদের অবিভাবকরা অসন্তোস প্রকাশ করেছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মিথ্যা কথা বলে কোচিং বন্ধ রেখে আড়াই ঘন্টা ব্যাপী ওই অনুষ্ঠানে বসিয়ে রাখায় তারা বিরুপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। ভিন্ন ধর্মের আয়োজনে শধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের (বেশীরভাগ মেয়ে) উপস্থিতি বাদ্ধ করায় মুসলিম ধর্মপ্রাণ সচেতন মহলে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুধু তাই নয় এ বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালন ডিকে মৃণালের কাছে জানতে চাইলে তিনি এবং তার ভাই মৃধূল কান্তি সংবাদ কর্মীদের সাথে অসদাচরণ করেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন। মঙ্গলবার চাঁদপুর শহরের পুরাণ আদালত পাড়ার অযাচক আশ্রমে এই ঘটনা ঘটে। আয়োজন স্থানে উপস্থিত থেকে দেখা যায়, মঙ্গলবার শ্রী শ্রীমাৎ স্বামী সরূপানন্দের জন্মভূমি অযচক আশ্রমে ভারতের চিকিৎসক ডা. শ্রী অশোক কুমার মুখোপধ্যায়কে সংবর্ধনা প্রদান ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এসময় দেখা যায় অনুষ্ঠানস্থলের দর্শক সাড়িতে দুই তৃতীয়াংশ ছিলো বোরকাপরা নারী ও ছেলে শিক্ষার্থী। কিছুক্ষণ পর পর ওই শিক্ষার্থীদের কোচিং শিক্ষক মৃণাল সাহা এসে তাদের ‘ আর অল্প সময় থাকতে হবে’ বলে সান্তনা দিতে দেখা যায়। এসময় মন্দিরের বাইরে গেটে বেশ ক’জন অবিভাবককে দাড়িয়ে থাকতে দেখা তাদের ভেতরে আসতে বলা হলে তারা অনিহা প্রকাশ করে বলেন ভেতরে তাদের মেয়ে আছে।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এক অবিভাবক বলেন, এটি একটি মন্দির, অথচ আমাদের মুসলিম মেয়েদের কোচিং সেন্টার থেকে এখানে আনা হয়েছে’। অথচ কোনো হিন্দু মেয়েকে এই অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক অবিভাবক বলেন, ‘আমরা মেয়েদের কোচিং পড়তে ই-হক সেন্টারে দিয়েছি, কিন্তু তাদের জোর করে ভিন্ন ধর্মের অনুষ্ঠানে নেয়ার অনুমতি দেয়নি। কেউ যদি স্বেচ্ছায় ভিন্ন ধর্মের অনুষ্ঠানে যায় তাতে কোনো অপত্তি নেই। আমাদের ওয়াজ মাহফিলে ভিন্ন ধর্মের কারো সন্তানকে জোর করে আনা তারাও তো কষ্ট পেতেন। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, মৃণাল স্যার আমাদের মিথ্যা কথা বলে এখানে এছেন। আমরা যদি জানতাম যে এটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান তবে আসতাম না।
এ বিষয়ে ই-হক কোচিং সেন্টারের পরিচালনক মৃণালের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিভিন্নভাবে এই সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই সংবাদ প্রকাশ করলে (আপনার) সমস্যা হবে’ এখন এমন করছেন, কিছুক্ষণ পরে আবার স্যার স্যার বলে কুল পাবেন না,। ‘ শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইচ্ছায় এসেছে কিনা’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকে কোচিং বন্ধ, ওরা সবাই এসএসসি পরিক্ষার্থী, একজন ভালো লোক এখানে বক্তব্য রাখতে তাই মেয়েরা নিজেদের ইচ্ছেতেই এখানে এসেছে।
এদিকে অনুষ্ঠানের শেষ শিক্ষার্থীরা বেড়িয়ে যাওয়ার সময় তাদের শিক্ষাক মৃণাল ও তার ভাই মৃধুল মিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে বলেন, ‘‘তোমরা বলবে যে তোমরা নিজেদের ইচ্ছেতেই এখানে এসেছা।