সিলেট: ২১ ঘন্টা পর মুক্তি হলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবিতে গতকাল বুধবার বেলা দুইটা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জরুরী সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পরই অবরোধ তুলে নিয়ে ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়। ফলে তিনিসহ ভেতরে আটকা পড়া কর্মকর্তারা মুক্ত হন। সেখান থেকে তার বাংলোয় যান।
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যদিও পরে সিন্ডিকেট সভায় আগামী ৬জানুয়ারী পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।
প্রথমদিকে তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করলেও পরে ক্যাম্পাসে এসে উপাচার্য ভবন ঘেরাও করেন। ফলে সেখানে উপাচার্য ছাড়াও শাবির কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী আটকা পড়েন। বিকেলে ওই ভবনের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।
মাঝখানে সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভার জন্য ভবনের তালা খুলে দেওয়া ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখন শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষকে রাত ৯ টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। কিন্তু সেটা আদায় না হওয়ায় রাত ৯ টার দিকে দ্বিতীয়দফা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীরা।
তবে দীর্ঘ ১০ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর নিজের কার্যালয় ফটকে আন্দোলন কারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছিলেন শাবি ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার কথায় আশ্বস্থ হতে না পেরে রাতভর অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।
সংকট নিরসনে সকাল সাড়ে নয়টায় জরুরী সিন্ডিকেট সভায় শুরু হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা আজ থেকে এবং আগামী ২৫ডিসেম্বর থেকে বৈধ ছাত্রদের জন্য তিনটি ছাত্রহল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে সিন্ডিকেট কমিটির সভায় ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া শাবির তিন আবাসিক ছাত্রহলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।