রংপুর: রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নুর-উন-নবীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদন্ত শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তবে ভিসি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কি অনিয়ম তা কেউ অফিসিয়ালি আমাকে জানায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আকতার হোসেনের নেতৃত্বে ইউজিসির যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ড. ফকরুল ইসলাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মোহাম্মদ মিজান উদ্দিন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এ সময় তারা অভিযোগকারীদের কাছ থেকে অভিযোগ সরাসরি শুনছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহন করছেন। মঙ্গলবারও এই তদন্ত কার্যক্রম চলবে।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি চলতি বছর ৬ মার্চ ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে ভিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ লিখিত ভাবে জানান।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষক সমিতি জানায়, ভিসি ২০১৩ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ৪ বছরে প্রায় ৫০০ দিন ঢাকায় থেকেছেন। এতে প্রশাসনিকসহ কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়াও ভিসি একাই ট্রেজারারসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধানসহ একাই ১৩টি পদ অবৈধভাবে দখল করে আছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ভিসি ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে অকার্যকর করে রেখেছেন। জাল সনদধারী একজনকে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পরবর্তীতে তা বাতিল করলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী পদায়ন ও পদোন্নতিতে চরম অনিয়ম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও প্রবিধি প্রণয়ন না করে নিজের ইচ্ছেমতো বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালিত করেছেন। বিভিন্ন মামলা দিয়ে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের হয়রানি করেছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ভিসি নিজের পিয়নসহ কর্মচারীদের দিয়ে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করিয়ে ভুয়া নাম লিখে প্রায় কোটি টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেছেন। ক্যাফেটরিয়া ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার ৩ বছরেও তা চালু করেননি। প্রশাসনিক ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও তা ব্যবহার না করে ফেলে রেখেছেন।
এ ছাড়াও ভিসি তার বাড়িতে কোটি টাকার কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ক্রয় করে বছরের পর বছর ধরে তার বাড়িতে ফেলে রাখেন। এসব ব্যবহার না করায় একদিকে তা এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সামগ্রী কেনার সময় যে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি এসব মালামাল প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় নবনির্মিত ভবনে তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান জানান, আমরা ইউজিসিকে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। তদন্ত শুরু হয়েছে। আমাদেরকে ডাকা হয়েছে। আমরা তদন্ত কমিটির কাছে বিস্তারিত বলবো। তথ্য উপাত্ত দিবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মুহাম্মদ ইবরাহিম কবীর জানান, তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন অভিযোগকারীদের কাছ থেকে তারা শুনছেন। মঙ্গলবারও তদন্ত চলবে। তারপর তারা ভিসির সাথেও বসবেন।
তদন্ত ও অভিযোগ প্রসঙ্গে ভিসি ড. নুর-উন-নবী জানান, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত ভাবে জানায়নি, আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ। তবে পত্রিকায় আমি পড়েছি।
তিনি বলেন, তদন্ত দল এসেছে। তারা তদন্ত করবেন। তবে আমি নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আন্তর্জাতিক মানের করবার জন্য এবং এখানে বেড়ে উঠা অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবার জন্য সবসময় সচেষ্ট ছিলাম। অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় এবং কোনো অন্যায় চাপের কাছে অবনত না হওয়ায় একটি পক্ষ শুরু থেকেই আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত হয়ে সকল অনিয়মের উর্ধে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা শপথে উজ্জীবিত।