সিসি নিউজ: থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীতে সকল ধরনের উৎসব, সমাবেশ, জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো, আছাদুজ্জামান মিয়া।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, ফাঁকা রাস্তায় প্রকাশ্যে কোন ধরণের জমায়েত, সমাবেশ বা উৎসব করা যাবে না।
অতীতের থার্টি ফাস্ট নাইটের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, এ আনন্দ উৎসব উদযাপনের নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি নিজস্ব সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে থাকে।
কিছু সংখ্যক ব্যক্তির নেতিবাচক কর্মকান্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কতিপয় ব্যক্তি আনন্দের আতিশয্যে পটকাবাজি, আতশবাজি, অশোভন আচরণ, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটর সাইকেল চালানোর মাধ্যমে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যা অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটিয়েও অনাকাঙ্গাক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়।
ক্ষেত্র বিশেষে প্রকাশ্যে অভদ্রজনোচিত আপত্তিকর আচরণ করে থাকে। এ সকল নৈতিক মূল্যবোধ পরিপন্থী কর্মকান্ড একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা সৃষ্টি করে। তাই আগামী ৩১ ডিসেম্বর রাতে পটকাবাজি, আতশবাজি, বেপরোয়া গাড়ি, মোটর সাইকেল চালনাসহ যে কোনো ধরণের অশোভন আচরণ এবং বেআইনী কার্যকলাপ হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তা।
ইংরেজি নববর্ষ উদ্যাপনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবতির যে কোন ধরণের আশঙ্কা রোধকল্পে ঢাকা মহানগর পুলিশ অত্যন্ত বদ্ধপরিকর জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে কয়েকটি নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।
নিদের্শনার মধ্যে রয়েছে
> ঢাকা মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায় এবং প্রকাশ্যে কোন ধরণের জমায়েত, সমাবেশ, উৎসব করা যাবে না।
> উন্মুক্ত স্থানে কোন ধরণের অনুষ্ঠান বা সমবেত হওয়া যাবেনা।
> গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬ টার পরে বহিরাগত কোন ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ী নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।
> গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য কাকলী ক্রসিং এবং আমতলী ক্রসিং উম্মুক্ত থাকবে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে এ দু’টি ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
> উপর্যুক্ত সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যবৃন্দকে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
> একইভাবে উপর্যুক্ত সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যে সকল নাগরিক বসবাস করেন না তাদেরকে বর্ণিত এলাকায় গমনের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
> রাত ৮ টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কেউ অবস্থান করবেন না।
> কোথাও আতশবাজি বা পটকা ফুটানো যাবে না।
> উন্মুক্ত স্থানে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নাচ, গান বা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।
> মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার পর ঢাকা মহানগরীর কোন বার খোলা রাখা যাবে না।
> ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮ টা হতে পহেলা জানুয়ারি ভোর ৫ টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেঁস্তোরা, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সকল প্রকার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সম্মানিত নগরবাসীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করা গেল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উপর্যুক্ত নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।