পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: পীরগঞ্জ থানা পুলিশের কথিত লাইনম্যান বা রাস্তার এক ইজারাদারের দৌরাত্মে অতিষ্ট ব্যবসায়ী ও মালামাল পরিবহনকারীরা। প্রায়ই মালামাল পরিবহনকারীদের সাথে মাসিক চুক্তির টাকা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ছাড়াও বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসির দেয়া অভিযোগে জানা গেছে, করতোয়া নদীর জয়ন্তীপুর, কাঁচদহ, মাটিয়ালপাড়া, নুনদহ, রামনাথপুর-শিমুলবাড়ী, বাঁশপুকুরিয়ার শালপাড়া, কুলানন্দপুর ও নেংড়ার ঘাট দিয়ে নেশাজাত দ্রব্যাদীসহ ভারতীয় বিভিন্ন মালামাল চোরাই পথে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলায় তার পর অন্যত্র। ওইসব অবৈধ মালামাল পীরগঞ্জ উপজেলা পাড়ি দিতে ওই ইজারাদারের সাথে মাসিক চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হয়। চোরাকারবারীদের অবৈধ মালামাল পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়কপথ ব্যবহারে কথিত ওই ইজারাদারের নির্ধারিত মাসিক চাঁদা দিতে হয়। না দিলে মালামাল খোয়া যাওয়াসহ নানান ঝামেলা পোহাতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কারবারের সাথে জড়িত একাধিক ব্যবসায়ী জানান‘ গওসুল আজম নামের এক ব্যক্তিকে মাসোহারা দিতে হয়। গওসুল আযমের বাড়ী পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালি ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে। তিনি না কি পীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছ থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে বর্নিত ঘাটগুলোর সাথে সংযুক্ত সড়কগুলো ইজারা নিয়েছে। যে কারনে ভারতীয় অবৈধ মালামাল পরিবহনের সময় পরিবহনকারীদের সাথে কেউ কথা বললে তাকে লাঞ্চিত ও বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয় গওসুল ও তার লোকজনের হাতে। গওসুলের ওই কাজে পীরগঞ্জ থানার কোন কোন পুলিশ অফিসার সহায়তা করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টুকুরিয়া ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য বলেন‘ শুনেছি গওসুল রাস্তার লাইনম্যান। থানা পুলিশের কাছ থেকে না কি ওইসব রাস্তা মাসিক চুক্তিতে ডেকে নিয়েছেন।
মদনখালি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম বলেন‘ ভাই কি আর বলবো গওসুল তো এলাকার লড সে এখন সব জায়গার নিয়ন্ত্রন করছে। ওর কথা কি আর বলবো সব জায়গায় ঝামেলা তৈরী করছে। ইন্ডিয়ান থেকে যারা মসলাসহ বিভিন্ন পন্য আনা নেয়া করে তাদের কাছ থেকে টাকা তোলে। তার দাবীকৃত টাকা না দিলে ওইসব ব্যবসায়ীদের সে বেঁধে রেখে টাকা আদায় করে।
পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশীদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন‘ এ ধরনের কোন চুক্তিপত্র পীরগঞ্জ থানা পুলিশের কারো সাথে নাই।