• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন |

সুনামগঞ্জে জলমহাল দখলে নিহত বেড়ে ৩

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি জলমহালের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত বেড়ে তিনজন হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের পাশের জারুলিয়া জলমহালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন- হাতিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৩৩), আকিলপুর গ্রামের সাহারুল ইসলাম (২৮) ও উজ্জ্বল মিয়া (৩০)।

এ ঘটনায় আহত আল আমিন (২৫), সোনা মিয়াকে (২২) দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আরো অন্তত ২০ জন ভর্তি আছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস জানান, আজ সকালে একরার হোসেনের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জলমহালের দখল নিতে যায় এবং তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, তারা কাউকে গুলি করেননি। একরার হোসেনের লোকজন নিজেরাই নিজেদের লোকদের মেরে এখন তাদের ফাঁসাতে চাইছে।
একরার হোসেন বলেছেন, তিনি সমিতির কাছ থেকে ছয় বছরের চুক্তিতে জলমহালে মাছ ধরার জন্য নিয়েছেন। জলমহালটি তার দখলে আছে। সকালে দিরাই পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়ার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ওসমানী মেডিকেলে আহত লেবু মিয়া বলেন, পৌর মেয়রই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পৌর মেয়রের লোকজন হামলা চালায়।
পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ করি। দিরাইয়ে যারা আওয়ামী লীগ করে, সবাই আমার লোক। আমি দিরাই পৌর শহরে থাকি। আমার কোনো বিলের ব্যবসা নেই। এসবের কোনো কিছুই আমি জানি না।”
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ বন্দুকের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় ছররা গুলিতে আহত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি আছেন ২০ জন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল জানান, নিহত তাজুল ইসলামের শরীরে বন্দুকের গুলির চিহ্ন আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ