মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুরে ৪ দফা দাবীতে শহরের সব ওষুধের দোকানে অনির্দিষ্টাকালের ধর্মঘট পালন করছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা। ফলে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন রোগি ও তাদের স্বজনরা।
ওষুধ ব্যবসায়ীদের ৪ দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার র্যাবের অভিযানে কয়েকটি ওষুধের দোকান থেকে নেয়া “জরিমানার টাকা ফেরত, দিনাজপুর জেলা সুপার মো. রফিকুল ইসলামকে আগামী ২২ জানুয়ারীর মধ্যে প্রত্যাহার করা, ওষুধের দোকানে যেসব ওষুধ রাখা যাবে তার সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন ও চিকিৎসকদের নিম্নমানের কোম্পানীর ওষুধ রোগির ব্যবস্থাপত্রে না লিখা।”
এই দাবীতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে দিনাজপুর শহরের সব ওষুধের দোকান বন্ধ রয়েছে। ফলে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ভোক্তভোগিরা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে দিনাজপুর শহরে অভিযান চালিয়ে দুইটি ক্লিনিক ও একটি ফার্মেসিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনার দায়ে শহরের পাহাড়পুর এলাকার আনোয়ারা ক্লিনিককে এক হাজার টাকা ও গোলকুঠি এলাকার রোগমুক্তি ক্লিনিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে আরমান ফার্মেসিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে।
র্যাবের এই অভিযানের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট অ্যান্ড কেমিস্ট্রি সমিতি দিনাজপুর জেলা শাখা লিলিরমোড়স্থ নিজস্ব কার্যালয়ে তাৎক্ষনিক বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে ড্রাগিস্ট অ্যান্ড কেমিস্ট্রি সমিতির সদস্যদের সাথে আলোচনার পর ৪ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করে।
বৈঠক শেষে রাত ১০টায় বাংলাদেশ ড্রাগিস্ট অ্যান্ড কেমিস্ট্রি সমিতি দিনাজপুর শাখার নির্বাহী সদস্য মো. আসাদুজ্জামান সাগর জানান, র্যাবের অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সঙ্গে স্বাক্ষাত করলে তিনি কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সমিতির কার্যালয়ে পরবর্তি করণীয় বিষয় নিয়ে জরুরী বৈঠক হয়। বৈঠকে দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘন্টা আলোচনার পর উপরোল্লেখিত ৪ দফা দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।