• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন |

এমপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: এমপিদের নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয় সেই ব্যবস্থা করব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার জাতীয় সংসদে এমপি লিটনের মৃত্যুতে আনীত শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “লিটনের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই ধরব এবং শাস্তি নিশ্চিত করব। এই ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে এটাই আমরা চাই।”

শেখ হাসিনা দাবি করেন, “সেখানে (গাইবান্ধায়) বিএনপি-জামায়ত কত মানুষকে যে হত্যা করেছে তার কোনো হিসাব নেই। এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সে (এমপি লিটন) রুখে দাঁড়িয়েছিল, এটাই বুঝি তার কাল হয়ে গেল।”
তিনি বলেন, “সেখানকার মানুষের জীবনে লিটন শান্তি ফিরে এনেছিল, স্বস্তি এনেছিল। আর এটিই তার জন্য কাল হয়েছে।
শিশু সৌরভকে এমপি লিটন গুলি করেননি দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেন একটা শিশুকে গুলি করতে যাবে? কিন্তু এ কারণে তার গুলি সিজ করে করে নেয়া হয়।”
সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত
দশম জাতীয় সংসদের গাইবান্ধা-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মন্জুরুল ইসলাম লিটনসহ ১ জন সাবেক মন্ত্রী, ২ জন গণপরিষদ সদস্য ও ১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে আজ সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
অন্য যাদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন- মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ আব্দুল হাকিম এবং মোঃ জাফরুল হাসান ফরহাদ।
এছাড়া ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আকবর হাসেমি রাফসানজানি, ভারতের তামিলনাড়– রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জে. জয়ললিতা, সাবেক প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ছানা, প্রখ্যাত নৃবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন খান শামসুল আরেফিন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কবি, লেখক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বোমা হামলা, নাইজেরিয়ার গীর্জার ছাদ ধসে, মিসরের রাজধানী কায়রোয় বোমা হামলায়, জার্মানীর বার্লিনে ক্রিসমাস মার্কেটে লরি হামলা এবং দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সংসদের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
শোক প্রস্তাবে মৃত্যুবরণকারী সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর নিজ নির্বাচনী এলাকার বাসভবনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বর্তমান সংসদের সদস্য মন্জুরুল ইসলাম লিটনের স্মরণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।
এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, চিফ হুইপ আ,স,ম ফিরোজ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সরকারি দলের জাহাঙ্গীর কবির নানক, মীর শওকত আলী বাদশা, শামীম ওসমান, মাহবুব আরা বেগম গিনি ও জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
পরে মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের এ কে এম এ আওয়াল (সাইদুর রহমান)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ