আদালত সূত্রে জানাগেছে ডা. সহেলী আহমেদ সহেলী স্ত্রী দাবিদার ডাক্তারদ্বয় হলেন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের (মিডফোর্ড) কিডনি বিভাগের প্রধান ও সহযোগি অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদ ইকবাল এবং উত্তরার ৬ নং সেক্টরের বাসিন্দা ডা. কাজী মিনহাজুল আবেদিন। ডা. সহেলী আহমেদও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক।
মামলার এজাহার ও আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডা. সহেলী আহমেদ সুইটি প্রথমে ডা. কাজী মিনহাজুল আবেদীনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পরে তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মগবাজারের কাজীর মাধ্যমে তালাক দেন। মিনহাজুল আবেদীনকে তালাক দেওয়ার পর ডা. সহেলী ডা. মো. মাসুদ ইকবাল নামে আরেক জনের সাথে সম্পর্কে জড়ান। এসময় ডা. সহেলী উচ্চতর শিক্ষার জন্য কানাডা যান।
পরে ডা. মাসুদকে কানাডা ডেকে নিয়ে সেখানে ইসলামীক ফাউন্ডেশন অব টরেন্টের কাজী অফিসে বিয়ে করেন। কানাডিয় সিভিল ম্যানেজার বিভাগে ঐ বিয়ের রেজিস্ট্রিও করা হয়।
বিয়ের পর ডা. মাসুদ দেশে ফিরে আসেন। কিছু দিন পর ডা. সহেলীও দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার কিছু দিনপর পর সুইটি মাসুদের অনুমতি ছাড়া ২০১৫ সালের ৯ মার্চ ডা. কাজী মিনহাজুল আবেদিনকে আবার বিয়ে করেন। তবে এই বিয়ের সময় কাবিন নামায় সুইটি নিজেকে তালাকপ্রাপ্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু আদালতে ডা. সহেলী এবিষয়ে কোন প্রমান জমা দিতে পারেননি।
তার আগে ডা. সহেলী মিনহাজকে তালাক দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবী করেছেন। একই ভাবে একবার ডা. মাসুদকে তালাক দিয়ে সেটিও প্রত্যাহার করেছেন। ফলে মিনহাজের কাছে গিয়েছেন তিন বার এবং মাসুদের কাছে ফিরেছেন দুই বার। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রথম স্বামী মিনহাজের কাছেই আছেন।
কিন্তু স্বামী থাকা অস্থায় তথ্য গোপন রেখে পূনরায় কাজী মিনহাজকে বিয়ে করার পর ফৌজদারি দন্ডবিধির ৪৯৮/১০৯ ধারায় শাস্থিযোগ্য অপরাধ সংগঠন করেছে মর্মে গত ৪.১.১৬ ইং তারিখে ডা. মাসুদ ডা. সহেলীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন । একই সাথে সহেলী ফুসলিয়ে বিয়ে করায় ডা. কাজী মিনহাজের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ দায়ের করেন ডা. মাসুদ।
তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কোন সমাধানে আসতে না পারায় আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই ) তদন্তের নির্দেশ দেন।
কিন্ত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় মিনহাজুলকে তালাক দেওয়া ও তালাক প্রত্যাহারের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সালিসি পরিষদে গত ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল মিনহাজকে প্রদানকৃত তালাক কার্যকর করার জন্য সহেলী অনুরোধ করেছে।
তদন্ত শেষে পিবিআই ডা.সুইটির কর্তৃক ডা. মিনহাজুলকে দেওয়া তালাকের ফটোকপি, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক তালাক প্রত্যাহারের রায়ের কপি, সুইটি তালাক কার্যকর করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের শালিসি পরিষদের আদেশ ও মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
প্রতিবেদনে ডা.সহেলী আহমেদ সুইটির স্বামী জীবীত থাকা অস্থায় তাকে তালাক না দিয়ে পূনরায় ডা.মিনহাজুল আবেদিনকে বিয়ে করায় সুইটির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৮৯৮ ধারায় এবং সহেলী প্ররোচনা দিয়ে বিয়ে করায় ডা.মিনহাজুল আবেদিনকে পেনাল কোডের ৪৮৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ করেছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
এদিকে জানা গেছে, এক বউ নিয়ে দুই ডাক্তারের মধ্যে টানাটানির মাঝে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে ডা. মাসুদের বিরুদ্ধে ডা. সহেলী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন । মামলায় বলা হয় খিলক্ষেতের কাচা বাজারে ডা. মাসুদ তাকে কুরুচিপূর্ন কথা বলে এবং তার স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। তবে তদন্ত সংস্থা এ মামলাটিকে মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করে আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। একই সাথে ডা. মাসুদকে ঐ মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তবে ডা. মাসুদ ডা. সহেলী নিজের স্ত্রীর দাবিতে এখনো অনঢ়।
ঢাকা মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, এই মামলার শুনানিতে আমি একদিন ছিলাম। বিষয়টি লজ্জাজনক। এবিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা।
ডা. মিনহাজুল ও ডা. সহেলীর আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ জানান, এই মামলাটি কোয়াস (চলেনা মর্মে) করার জন্য আমরা হাইকোর্টে গিয়েছি। আজ আদালতে এ মর্মে ল’ইয়ার সাটিফিকেট দাখিল করেছি। মামলাটি আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি শুনানি জন্য আছে।
ডা. মাসুদ ইকবালের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান জানান, আমরা এ নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলাম। পুলিশ প্রতিবেদন ও বিবাদী পক্ষের জবাব বলে তার দুই স্বামীই বলবত আছে। এখন আমাদেরও প্রশ্ন ডা.সহেলী আহমেদ সুইটি আসলে কার বউ?