• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে একই কেন্দ্র দুই সচিব

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবকে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে একই কেন্দ্রে বোর্ড মনোনীত একজন ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের একজন কেন্দ্র সচিব রয়েছেন। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পাবলিক পরীক্ষার পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এ পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে ঘিরে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জানা যায়, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ বিদ্যালয়টি অবস্থিত। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যেমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী ও দিনাজপুরের অধীনে এ বিদ্যালয়ে ১৯৮৬ খ্রিঃ হতে এসএসসি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যেমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরের অধীনে ২০১০ খ্রিঃ হতে জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড এর যার ক্রমিক নং-৮৯/৫, কেন্দ্র কোড ৬০৬, কেন্দ্রের নাম ডোমার-বি, বিদ্যালয়ের নাম চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বছরের ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ওই বিদ্যালয়ের কর্মরত প্রধান শিক্ষকেই কেন্দ্র সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বোর্ড এর আদেশে আদিষ্ট হয়ে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। আবার অপরদিকে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। তবে সচিব পরিবর্তনে বোর্ডের কোন প্রকার অনুমতি নেই। এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কতিপয় প্রভাবশালীর যোগসাজশে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে পরীক্ষা শুরুর কয়েক দিন আগে বোর্ডের অনুমতি বা অবহিতকরন ছাড়াই স্বার্থান্নেষী মহলের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, পরীক্ষা গ্রহনে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কতিপয় ব্যাক্তি স্বার্থ রক্ষার এ কর্মযজ্ঞকে ঘিরে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এ ব্যাস্ততাকে ঘিরে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রাকিবুল ইসলাম জানান, বিধি মোতাবেক যে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। যদি না ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ডের কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা থাকে। চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বোর্ডের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাকেই কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিভাবে কোন ভিত্তিতে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তন করেছেন তা বোর্ড জানে না এবং তিনি এখনো এ ব্যাপারে বোর্ডকে অবহিত করেননি। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্ত মতে কেন্দ্র সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালনে ওই প্রধান শিক্ষকের কোন বাধা নেই। জানা যায়, ওই কেন্দ্রে এখন বোর্ডের একজন কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একজন কেন্দ্র সচিব রয়েছেন। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা বোর্ডের কোন নিষেধাজ্ঞা চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেই স্বীকার করে উত্তেজিত হয়ে জানান, যা কিছু করেছি বিধি মোতাবেক করেছি এর বেশী তিনি বলতে রাজী হননি। এ ব্যাপারে চিলাহাটি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, বোর্ড আমাকে কেন্দ্র সচিব হিসাবে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে আমাকে জানানো হয়েছে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এখনো বোর্ডের কোন চিঠিপত্র পাই নি। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা মাধ্যেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকেরিনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ