নীলফামারী প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার প্রকৃত ৫ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্থানে দুই জন ভুয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির ডোমার উপজেলার সদস্য সচিব বরাবর উপজেলার একাধিক মুক্তিযোদ্ধার দায়ের করা একটি অভিযোগে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, ডোমার পৌরসভার চিকনমাটি গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডের মৃত মেজাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারীকে তার কু-কর্ম ও অপকর্মের জন্য খান সেনারা আটক করে। খান সেনাদের জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে অবৈধ অস্ত্র রাখার কথা সে স্বীকার করে ও একটি থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল খান সেনাদের কাছে বের করে দেয়। এরই জেরে খান সেনারা তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে তার ওয়ারিশেরা অসদুপায়ের মাধ্যেমে উপজেলার প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা একই গ্রামের আনজারুল হক ধীরাজের নাম সরকারী গেজেড হতে বাদ দিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ২০০৩ সালের গেজেডে আব্দুল বারীর নাম তালিকাভুক্ত করেন। অপরদিকে একই উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের হাজী মনসুর আলীর পুত্র মকবুল হোসেন। তিনি নিজ এলাকায় একজন নারী পিপাসু, নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষক হিসাবে পরিচিত ব্যাক্তি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী এমন অভিযোগ পাকসেনাদের কাছে দায়ের করলে পাক সেনারা তাকে আটক করে ও পরে তাকে গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীতে তার ওয়ারিশেরা অসুদপায় অবলম্বনের মাধ্যেমে একই গ্রামের প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জাহেদুল হকের নাম বাদ দিয়ে মকবুল হোসেনের নাম ২০০৩ সালে গেজেডভুক্ত করেন। ওই দুইজন ভুয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম শুধুমাত্র ২০০৩ সালের গেজেডেই উল্লেখ রয়েছে। এর পুর্বের বা পরের কোন গেজেড বা ভারতীয় তালিকা কিংবা অন্য কোন তালিকায় উল্লেখ নেই বলে অভিযোগে প্রকাশ। প্রকৃত তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যেমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারনের ব্যাপারে অভিযোগ দায়েরকারী মুক্তিযোদ্ধাগন সরকারের যথাযথ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা হতে ভুয়া শহীদের নাম বাদ দেয়ার আবেদন করছেন।