ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ার ভারতীয় সীমান্তের ৭৮২ মেইন পিলার এলাকায় চিলাহাটি-ভারত সীমান্তে শনিবার রেল যোগাযোগ পরিদর্শনে এসেছেন ভারতীয় হাই কমিশনারের সচিব দিব্বাঞ্জন রায় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর ট্রাফিক বিভাগের কালিকান্ত ঘোষ।
এ সময় ভারতের হলদীবাড়ী সীমান্তে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন ভারতীয় রেল বিভাগের এক্সসিএন প্রবীর কুমার দেব এবং সেকশন ইঞ্জিনিয়ার আর কে সিং। উভয়ের দেশের প্রতিনিধিরা চিলাহাটি-হলদীবাড়ী রেলপথটি পূনরায় সংস্কারের মাধ্যমে চালুর জন্য মত বিনিময় করেন।
এসময় ভারতীয় রেলবিভাগের দুই কর্মকতা ভারতীয় হাই কমিশনারের সচিব দিব্বাঞ্জন রায়কে জানান, তারা ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই রেলপথটি পুনরায় চালু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। অপরদিকে ভারতীয় সীমান্ত থেকে চিলাহাটি রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রেলপথটি দ্রুত সংস্কার করে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় রেলযোগাযোগ চালু করে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারত বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় করবে।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে ভারতীয় হাই কমিশনারের সচিব দিব্বাঞ্জন রায় বলেন উভয় দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রানের দাবিটি পুরন করতেই আমরা দুই দেশের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসেছি। এসময় সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে সহযোগীতা করেন ৫৬ বিজিবি’র ডাঙ্গাপাড়া বিওপি’র সুবেদার আব্দুল হামিদ, চিলাহাটি রেলস্টেশন মাস্টার আব্দুল মতিন।
উলে¬খ্য যে, ভারত বাংলাদেশের শেষবার ট্রেনের বাঁশি শোনা গিয়েছিল ১৯৬৫ সালে। সেই থেকে রেলের চাকা হলদিবাড়ির থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আর বাংলাদেশের চিলাহাটিতে ঢোকেনি। অথচ, এই রেল পরিষেবা শুরুর দাবি দীর্ঘদিনের। অতীতে ব্রিটিশ শাসিত ভারতে এবং স্বাধীনতার পরেও বেশ কয়েক বছর এই পথে রেল চলাচল করেছে। কলকাতা এবং উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ছিল এই পথেই। দার্জিলিং মেলও এই পথেই চলত। পণ্যবাহী ট্রেনও চলত। প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশের বৃহত্তম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি অসম বেঙ্গল রেলওয়ের উদ্যোগে ১৮৭০ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। ওই সময় ভারতের শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে হলদিবাড়ি হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটি ও সৈয়দপুর এবং দর্শনা দিয়ে দাজিলিং মেইল ট্রেনটি কলকাতা পযর্ন্ত চলাচল করতো। এ ছাড়া চিলাহাটি থেকে হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চলাচল করতো একটি পাসপোর্ট ট্রেন। চালু ছিল স্থলবন্দর ও চেকপোস্ট। কিন্তু পাক-ভারত যুদ্ধের পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ ও স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর উভয় দেশ স্থাপিত রেলপথটি ১৯৬৫ সালে উঠিয়ে ফেলা হয়েছিল। বর্তমানে উভয় দেশের রেললাইন না থাকলেও রয়েছে রেলপথের অবকাঠামো।
ভারতের হলদীবাড়ী রেলস্টেশন ও চিলাহাটি রেল স্টেশন পর্যন্ত রেলপথ সংযোগটি ১৯৬৫ইং সাল থেকে বন্ধ থাকায় বর্তমান সরকারের আমলে পূনরায় রেলপথটি সংস্কারের মাধ্যমে চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় । বাংলাদেশ অংশে ৭.৫০ কিলোমিটার ও ভারতীয় অংশে ২.৭৫ কিলোমিটার রেলপথ সংষ্কার করার জন্য অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করেছে দুদেশ।