চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সেতু ও কালভাট নির্মাণের টেন্ডার লটারীতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী কর্তৃক সাধারন ঠিকাদারদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১০ জন ঠিকাদার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই মারধরের ঘটনায় আ’লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সাধারন ঠিকাদাররা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঠিকাদাররা জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের গ্রামীন রাস্তা কমবেশি ১৫ দৈর্ঘ্যরে সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের চিরিরবন্দরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় লটারীর তারিখ ছিল।
লটারীর শুরুর সময়ে দায়িতত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লটারীর প্রসেস করার সময় ঠিকাদাররা তাকে স্বচ্ছ লটারী করার বিষয় জানান। এ সময় চিরিরবন্দর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আইয়ুবুর রহমান শাহ্, থানা আওয়ামলীগের সাধারন সম্পাদক আহসানুল হক মুকুল, আওয়ামীলীগ নেতা আজিমদ্দিন গোলাপ, আফতাবুল ইসলাম, আকরামুল ইসলাম, ফিজার, যুবলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ কয়েকজন উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে সামনে এসে উপস্থিত ঠিকাদারদের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু করে এবং ঠিকাদারদেরকে চলে যেতে বলে। উপস্থিত ঠিকাদাররা এর প্রতিবাদ করলে আ’লীগে নেতাকর্মীরা সকলে মিলে ঠিকাদারদেরকে মারধর করে। এতে করে ঠিকাদার কামরুল হাসান ভুট্টু, মোহাম্মদ রেজা, পলাশ, আবুল কালাম আজাদ, শেখ ফরিদ, রিয়াদসহ কয়েকজন আহত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে জানানো হয়, চিরিরবন্দরের আ’লীগ নেতারা মারধর করে ঠিকাদারদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের ইচ্ছেমত লটারী পরিচালনা করে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে নিজেদের লোকজনদেরকে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছে। এই মারধরের সময় চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
ঠিকাদাররা জানান, এর আগেও চিরিরবন্দরে যেসব লটারী হয়েছে সেখানে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। যার কারনে গত ৩১ জানুয়ারী দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক বরাবরে লটারীটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে করার লিখিত আবেদন করেন তারা। কিন্তু আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি, আর যার ফলে তাদেরকে মারধরের স্বীকার হতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয় যাতে করে পুনরায় এই টেন্ডারের লটারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিচালনা করা হয়, যাতে করে যাতে করে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ লটারীর মাধ্যমে যারা যোগ্য তারা এই কাজ প্রাপ্ত হবেন। সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদার আনোয়ারুল ইসলাম, নাসিম খান, কামরুল হাসান ভুট্টু, মোহাম্মদ রেজা, পলাশ, আবুল কালাম আজাদ, শেখ ফরিদ, রিয়াদসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।