• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন |

দিনাজপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ৮

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর সদর উপজেলার বড়গ্রাম (ছাইতনকুড়ি) গ্রামের একটি পুকুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে বাধা দেয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় যুদ্ধাহত এক মুক্তিযোদ্ধাসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩ জনকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকেৎসা দেয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তিকৃতরা হলেন-যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজির উদ্দীন (৬৫), মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্ধীনের স্ত্রী মোছাঃ ওয়াহেদা বেগম (৬২) ও ছেলে মো. ওবায়দুর রহমান (৩৫)। গত বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজির উদ্দীন জানান, বড়গ্রাম (ছাইতনকুড়ি) গ্রামের ২৩টি পরিবার বিগত অর্ধশতাব্দীর বেশী সময় ধরে বাড়ীর পাশের একটি পুকুর ভোগ দখল করে আসছিলেন। বিগত জড়িপে ওই পুকুরটি খাস পুকুর হিসেবে প্রমাণিত হয়। গত ২০১০ সালে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ পুকুরটি তাদের দখলে নিতে আদালতে মামলা করে। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর গত ১১-০৮-২০১৬ তারিখে পুকুরটি খাস পুকুর বলে আদালত রায় দেন।
আদালতের রায়ের পর মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দীনসহ ২৩ পরিবারের সদস্যরা দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে পুকুরটি লীজ নিয়ে পুনরায় মাছ চাষ করেন।
এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ পুকুরের লীজ বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করে। ওই মামলার প্রেক্ষিতে গত ১২-১২-২০১৬ তারিখে আদালত ৬ মাসের জন্য উভয় পক্ষকে পুকুরে না যাওয়ার নির্দেশ দেন।
কিস্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ৯ ফেব্রুয়ারী সকালে বড়গ্রাম (ছাইতনকুড়ি) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মানিক হোসেন, মৃত লালু শাহ’র ছেলে আব্দুল গফুর, আব্দুল গফুরের ছেলে তাজেদুল ইসলাম, মৃত কফিল উদ্দীনের দুই ছেলে জসিম উদ্দীন ও আফজাল হোসেন, হাছেন আলীর ছেলে তারিকুর ইসলাম, মৃত মকসেদ আলীর ছেলে মো. নুরুজ্জামানসহ প্রতিপক্ষ গ্রুপের ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ওই পুকুরে মাছ ধরতে গেলে মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দীনসহ অন্যান্যরা তাতে বাধা দেয়।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দীনসহ তার লোকদের উপর হামলা করে। তাদের হামলায় মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দীন, তার ভাই মৃত মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্ধীনের স্ত্রী মোছাঃ ওয়াহেদা বেগম (৬২) ও ছেলে মো. ওবায়দুর রহমান (৩৫), প্রতিবেশী মো. মকবুল হোসেন (৩৫), মোছাঃ সালেনুর বেগম (৫৫), মো. মমিনুল হক (৩৫), মো. মফিজুর রহমান (৩৩) ও মো. মোজাফ্ফর হোসেন (৫০) আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৩ জনকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
শনিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মজির উদ্দীন ও তার স্বজনরা ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ