• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

গল্প: বসন্তের প্রথম দিনে

।। সানমুন চৌধুরী ।।

মাকে হারিয়েছেন মাত্র ৪ বছর বয়সে, বাবা বিয়ে করে নতুন সংসার পেতেছে! নতুন মায়ের চোখে সামসুল বেশ আদরের ছিল! সেটা খুব বেশি দিনের জন্য নয়, মাত্র একটি মাসের জন্য! নতুন বউয়ের গন্ধ শরীর থেকে মুছে যেতেই জরিনা বেগম হয়ে গেলো জেরিন বেগম! না না নাম বদল করে নয় কাম বদল করে আধুনিক হয়েছে! যে সামসুল কে নিজের সন্তান মনে করে তাকে বুকে জরিয়ে নিয়েছিলেন মাস পেরোতেই তাকে লাথি মেরে সরিয়ে দিতে চাইলো বুক থেকে! সামসুলের নানী ছিলেন সত্তরোদ্ধ বৃদ্ধা, তারপরও সামসুল কে নিয়ে গেলেন তার কাছে! নানা জীবিত থাকলে হয়তো তার শাসনে কিছুটা মানবতা তৈরি হতো সামসুলের মাঝে, মামা-মামী ও তাদের সন্তানেরা কেউই কখনো অনাকাঙ্খিত এই কুটুম সামসুল কে মেনে নিতে পারেনি! ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে! শত কষ্ট আর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছে নিয়ে যুদ্ধ করেছে সে! সামসুলের বয়স এখন ঊনত্রিশ! লেখাপড়া বলতে নিজের নামটা লিখতে পারে!

যখন তার দশ বছর চলে তখন সে নানী বাড়ি এলাকার এক মহিলার হাত ধরে পারি জমায় ঢাকা শহরে, চায়ের দোকান, মুদি দোকান, গার্মেন্টস, পেপার বিক্রি থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজই কম বেশি করা হয়েছে তার। আপন কেউ নেই বলে তার কোন পিছুটান নেই! সময়ের সাথে তার শরীরের পরিবর্তন, ভিন্ন ধারার যৌন চাহিদা সবকিছুই তার মাঝে একটা বিরুপ প্রভাব শুরু করে! প্রচন্ড ক্ষীপ্র স্বভাবের কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সে এলাকার নাম করা মাস্তান হয়ে যায়, ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটা মামলার আসামীও হয়ে গেছে সে! নিজ হাতে খুন না করলেও খুনের নেতৃত্ব দেবার অপরাধে খুনির খাতাতেও নাম উঠে গেছে সামসুল (সামু) এর। রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ওঠাবসা আছে বলে জেলা খাঁটার হাত থেকে রেহাই পেয়েছে ব্যাপক অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে। নেশার জগতেও তার ডাকনাম বিশাল আকারে! সামু নামের খুক্ষ্যাতি ছোট বড় সবার মাঝেই কম/বেশি জানা আছে!

পলাশ ইন্টার পাশ করে ঢাকা শহরে এসেছে কোনো একটা কাজের খোঁজে, বাবা নেই পলাশের, মা একটা এনজিও অফিসে রাধুনীর চাকরী করে অনেক কষ্টে পলাশকে কলেজ পর্যন্ত পড়িয়েছে, পলাশও মায়ের সাথে সহযোদ্ধা হয়ে কাজ করে গেছে তার বুদ্ধি হবার পর থেকেই। গ্রামে তেমন কোন কাজের সুযোগ নেই বলেই সে শহরে এসেছে কোন একটা কাজ করবে পাশাপাশি ডিগ্রিতে ভর্তি হয়ে গ্রাজুয়েশনটা শেষ করবে! পলাশের খালাতো ভাই বেলাল কাজ করে একটা গার্মেন্টস এ, পলাশ গত দুদিন ধরে তার বাসাতেই আছে। বেলাল কিছুতেই পলাশ কে গার্মেন্টসে কাজ করতে দেবে না, কিন্তু তার পরিচিত তেমন কোন কাজের সন্ধানও নেই যেখানে কাজ করলে পলাশের লেখাপড়া করতে কোন সমস্যা হবে না! বেলাল পলাশ কে বলে,

-তোকে আমার ওখানে কাজে দিলে তুই তোর উদ্দেশ্য সফল করতে পারবি না ভাই! আমি তো তেমন লেখাপড়া জানিনা তাই এখানে পরে আছি, তোর মতো একটা ফুলকে আমি অকালে ঝরে যেতে দিবো না ভাই। আমরা তিন ভাই, কেউ না কেউ আম্মা আব্বা কে দেখবোই কিন্তু তুই ছাড়া তো খালার আর কেউ নেই! খালা কতো কষ্ট করে তোকে এতোদুর পর্যন্ত লেখাপড়া শিখিয়েছে এখন যদি তুই গার্মেন্টসে কাজ নিস তোর লেখাপড়া করা হবে না।
-যতোদিন কোন ভালো কাজ না পাচ্ছি ততোদিন গার্মেন্টস করি?
-না না সেটা হবে না, সারা মাস পর যখন বেতনের টাকা হাতে পাবি তখন আর কাজ ছাড়তে মন চাইবে না! আমি প্রতিদিন চিন্তা করি এই কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য একটা ভালো কাজ নিবো কিন্তু মাস শেষে যখন একসাথে বেতনের টাকাগুলো পাই পরদিন সকালে কোন কিছু না ভেবেই আবার কাজে চলে যাই, দরকার হয় আমি শতকষ্ট করে তোকে বহন করবো তবুও তোকে এই গার্মেন্টস জগতে ঢুকতে দেবো না!
-কেন ভাইয়া? এখানে থেকেও তো অনেকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে! আসল কথা হলো ইচ্ছে! আমার যদি ইচ্ছে থাকে আমি যেকোন অবস্থায় লেখাপড়া করতে পারবো।
-বেশি বুঝিস না! আমি তোর থেকে কমপক্ষে ১০ বছরের বড় দুনিয়ার বুকে বাস্তবতার জ্ঞান তোর থেকে অনেক বেশি।
-সেটা তো জানি ভাইয়া, কিন্তু সারাদিন কিভাবে সময় কাটাবো? কিছু একটা তো করতেই হবে তাইনা?
-দেখি রবিবার আমার ছুটি আছে, তোকে নিয়ে মিরপুর যাবো ওখানে মিনাবাজার সুপার সপে যদি তোকে ঢোকাতে পারি তাহলে হয়তো তোর জন্য অনেক ভালো হবে।
-ওখানে তোমার পরিচিত কেউ আছে?
-কেউ নেই তবে পরিচিত হতে সময় লাগবে না, এইযে আমি গার্মেন্টসে কাজ করছি কেউ আমার পরিচিত ছিলো না, গেটের সামনে দাড়াতেই একজন ডেকে নিয়ে গেলো, প্রথমে হেলপার, তারপর অপারেটর এখন অনেক ঠেলেঠুলে সুপার ভাইজার হয়েছি! তারপরও স্যারদের কতো নোংরা কথা শুনতে হয়! একটু সামান্য ভুল হলেও বাবা মা তুলে গালি দিয়ে বসে, তুই হচ্ছিস জনম দুখি একটা ছেলে তোকে ঐ নোংরা পরিবেশে কাজে কিভাবে লাগাই বল?
-ভাইয়া তুমি সত্যিই অনেক ভালো!

পলাশ বেলাল কে জরিয়ে ধরে কেদে ফেলে! রবিবার আসতে এখনো দুদিন বাকি, বাকী দুদিন পলাশ ঘরে বসে না কটিয়ে রাস্তায় বের হয়, অচেনা পরিবেশ, অচেনা মানুষ, মায়ের কষ্টের কথা মনে রেখে এই অচেনা মানুষগুলোকেই আপন করে নিতে হবে পলাশকে, তাইতো একটু একটু করে মনকে স্থির করে নিয়েছে সে। বেলাল বিয়ে করেছে তিন বছর আগে, তার ঘরে একটা বাচ্চা আছে, ঢাকায় চলতে পারে না বলে বউ বাচ্চা বাড়িতে থাকে, সে যতোই বলুক তাকে দেখে রাখবে তাই বলে সে এমন করতে পারে না, নিজেকে অবশ্যই কিছু করতে হবে, প্রয়োজনে তার মতো গার্মেন্টসের গেটে গেটে ঘুরবে কাজের জন্য, এলাকা চেনা দরকার এর জন্য, তাইতো সে আজ বের হয়েছে রাস্তায় আর অলিগলি ঘুরে দেখতে। প্রতিটা বিল্ডিং এর সামনে ঝোলানো বিলবোর্ড, ব্যানার, সাইনবোর্ড গুলো খুটে খুটে পড়ছে যদি কোথাও কাজের খোঁজ পেয়ে যায়।

সন্ধা হয়ে গেছে, বেলাল কিছুক্ষণ পর বাসায় আসবে, বাসায় এসে তাকে না পেলে চিন্তা করবে তাইতো সে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়, কিন্তু মহা সমস্যা বেধে যায় গলির মুখে এসে, বাসা খুঁজে পায়না, বাসার নাম্বার তার জানা নেই, প্রথম যেদিন এসেছিলো সেদিন বেলাল বাস স্টান্ড থেকে সরাসরি তাকে বাসায় এনেছিলো, দুদিন তো ঘরেই বসেছিলো, বোকার মতো এমন ভুল করবে সে নিজেও বুঝতে পারেনি, হয়তো বিপদ আসবে বলেই এতো বড় ভুল হয়ে গেছে, কথায় আছে সুযোগ এবং সুখ একসাথে আসে আর বিপদ ও দুঃখও একসাথে আসে, কষ্টে তার ভিতরটা ফেটে যাচ্ছে! এখন কি হবে, বারবার গলির মধ্য দিয়ে আসা যাওয়া করছে দেখে মধ্য বয়স্ক মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করলো,

-বাবা তুমি কি এই এলাকায় নতুন?
-জী চাচা, আমি বাসা হারিয়ে ফেলেছি, বাসা নাম্বারও ভুলে গেছি! এখন কি করবো বলেন তো?
-কি আর করবা বাপু! এখন তো বেশ বড় সমস্যায় ফেলে দিলে আমায়, আমি আবার মানুষের সমস্যা সইতে পারি না, তোমার সমস্যা এখন আমার সমস্যায় পরিনত হয়েছে, দাড়াও দেহি কোন উপায় পাই কিনা!

লোকটি কিছুক্ষণ মাথা চুলকিয়ে চিন্তা করে বললো,

-চলো আমার সাথে, একজন মানুষ আছে তোমার এই সমস্যা সমাধান করে দেবার মতো!
-কোথায় চাচা?
-আরে চলোতো!

পলাশ অসহায়ের মতো লোকটির পিছু পিছু যেতে থাকে, কিছুদুর যাবার পর সে একটা ছয়তলা বিল্ডিং এর গেটের সামনে যায়, পলাশের কেমন জানি ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসতে শুরু করে, মাথা নিচু থেকে আর উচু হয় না, মনে হয় শরীরের সব গুলো হাড্ডি মাংসের মধ্যে ঢুকে গেছে, ভীতি মানুষকে যা করে ওর মধ্যেও সেই আলামত শুরু হয়ে গেছে! না জানি আজ ভাগ্যে কি আছে!

-সামু ভাই কি বাসায় আছে? (লোকটি গেটের দারোয়ানের কাছে জানতে চাইলো)
-স্যার তো আজ কোথাও বের হয়নি!
-ঠিক আছে! একটু ফোন করে বলো নিজাম চাচা এসেছে
-আচ্ছা আপনি ভিতরে আসেন আমি বলছি।

পলাশ কে নিয়ে লোকটি গেটের ভিতরে ঢুকলো, দারোয়ান ফোন করে তাদের কথা বলতেই উপর থেকে আদেশ আসলো তাদের কে উপরে পাঠিয়ে দেবার জন্য। সিড়ি ভেঙে উপরে ওঠার শক্তি পাচ্ছিলো না পলাশ, তবুও অনেক কষ্টে তিন তলায় উঠলো। কলিং দিতেই ভিতর থেকে এক তাগড়া যুবক ছেলে দরজা খুলে দিয়ে বললো,

-চাচা আপনি হঠাৎ আমার বাসায়? আমাকে ডাকলেই তো পারতেন! আসেন ভিতরে আসেন।
-আরে বাবা সমস্যা আমার হলে তো তোমায় ডেকে নিতাম, কিন্তু সমস্যা হলো এই ছেলেটির, দেখনা ওর বাসা খুঁজে পাচ্ছে না! ঢাকায় নতুন এসেছে!
-কি বলেন? এখনো এতো বোকা মানুষ আছে নাকি? চেহারা দেখে তো মনে হয় লেখাপড়া জানা ছেলে! এই ছেলে নাম কি তোমার?
-জ্বী পলাশ?
-ঢাকায় একদম নতুন?
-জ্বী
-লেখাপড়া কিছু জানো না?
-জ্বী ইন্টার পাশ করেছি এই বছর।
-হায় হায় লেখাপড়ার সম্মানটাও রাখতে পারলে না! তোমাকে দিয়ে কিছু হবে বলে তো আমার মনে হয় না! বাবা কি কর?
-জ্বী বাবা নেই! মারা গেছে!
-ওহ!
-তো চাচা বলেন কি করতে পারি ওর জন্য?
-তুমি তো বাপু এই শহরের প্রতিটা বাড়ি অলিগলি সব জানো, ওর থেকে শুনে দেখো ও যেখানে উঠেছে তার কোন বর্ণনা দিলে তুমি চিনতে পারো কি না?
-কি যেন নাম তোমার? ও হ্যা পলাশ, বলো তুমি যে বাড়িতে উঠেছো তার বর্ণনা বলো?

পলাশের মুখে শুধু বাড়ির গেটের বর্ণনা শুনে মুহুর্তের মধ্যে সে বাড়ি খুঁজে ফেললো, গওশের মিয়ার বাড়ি, দৌদ্দটা রুম আছে তার মধ্যে ছয়টা ব্যাচেলর রুম, প্রতি রুমে তিনজন সদস্য, তার মুখের বর্ণনা শুনে পলাশ অবাক হয়ে গেলো, সব মিলে যাচ্ছে! এমনও হতে পারে! সামু পোশাক পরিবর্তন করে ওদের নিয়ে বের হলো, রাত প্রায় দশটা বেজে গেছে! এদিকে বেলাল তার খোঁজ করে না পেয়ে বাসায় এসে মুখ গোমরা করে বসে আছে! চোখের কোণে পানি চকচক করছে তার। পলাশের সাথে সামুকে দেখেই সে চমকে উঠলো! তাহলে কি পলাশ সামুর সংগ দিতে গিয়েছিলো! ভাইটা কি তাহলে নোংরা পথে পা বাড়ালো! এসব চিন্তা কিছু সময়ের জন্য তার মস্তিষ্ককে অবস করে দিয়েছিলো, কিন্তু সামু অর্থাৎ সামসুল তাকে ধমক দিয়ে বললো,

-তুমি মিয়া নাদান একটা ছোট ভাইটাকে বাসা নাম্বারটাও বলে দাওনি! থাকোতো এক ফকিন্নির বাসায়, হালায় বাসায় সামনে নাম্বারটাও লাগায়নি!

বলেই পলাশের হাত ধরে টেনে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়! পলাশ কে জরিয়ে ধরে বেলাল কেদে ফেলে সে বলে,

-তোকে আমি কোথাও যেতে বারণ করেছিলাম!
-আর কখনো যাবো না ভাইয়া!

দুই ভাইয়ের এমন কান্না আর মিলন দেখে সামুর চোখের কোণে জল চলে আসে, বেলাল তাকে সহ্য করতে না পারলেও তাকে বসতে বলে, এলাকার এমন নাম করা একজন সন্ত্রাস তার ঘরে বসবে বিষয়টা মালিকের কানে গেলে হয়তো বাসা ছেড়ে দিতে হবে, কিন্তু সে যে উপকার করেছে তার প্রতিদান হিসেবেও তো সৌজন্যতার খাতিরে তাকে বসতে বলতে হয়। বেলাল না বলতেও সামু চৌকির কোণে গিয়ে বসে, নিজাম চাচা আগেই চলে গিয়েছে! বেলাল বলে

-ভাইয়া বসেন আমি চা নিয়ে আসি!
-আরে না! চা খাবো না!
-কি করো তুমি?
-একটা গার্মেন্টসে সুপারভাইজার।
-পলাশ কি চাকরি করতে এসেছে?
-জ্বী ভাই!
-এমন কোমলমতি ছেলে কোথায় কাজ করবে বলো?
-কি করবে ভাই কিছু করার নেই গরীব হয়ে জন্ম নিলে অনেক কিছু করতে হয়।
-আমাকে কি একটু সুযোগ দেওয়া যায়? পলাশের সব খরচ যদি আমি বহন করি?
-আপনি কেন করবেন? ওকে আমার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন আমি এতেই অনেক কৃতজ্ঞ আপনার কাছে!
-আমি যদি ওর ভাই হতাম?
-সেটা অন্য বিষয়। কিন্তু আমি চাইনা আমার ভাই আপনাদের পথে যাক, ওর মা সেটা মানতে পারবে না, আমরাও মানতে পারবো না!
-দেখো বেলাল ভাই আমার কাজ খারাপ মানুষের জন্য খারাপ, কিন্তু ভালো মানুষের কোন ক্ষতি আমি করি না, তাহলে তোমার ভাইকে ফিরিয়ে দিতাম না।
-আমাদের কে ক্ষমা করে দিন আল্লাহর দোহাই লাগে।
-ছি ছি! আমাকে এতো খারাপ ভেবো না! আমার সব আছে শুধু একজন আপন মানুষের খুব অভাব তোমাদের দুভাইয়ের কান্না দেখে অামার আপন মানুষের অভাবটা বড় তীব্র হয়ে উঠেছিলো কিনা তাই! আচ্ছা বাদ দাও, ভালো থাকো তোমরা, কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাইও, কেমন?
-জ্বী ভাই জানাবো!

সামু চলে যেতেই বেলালর ভিতর থেকে হিংস্র রুপ বেরিয়ে আসলো, পলাশ কে ধমকের স্বরে সামুর সকল কুকৃত্তির কথা তাকে জানালো, এবং শক্ত করে সাবধান করে দিলো যেন ভুলেও তার সাথে আর কথা বা যোগাযোগ না করে। এদিকে পলাশের মনে যা হবার হয়ে গেছে! সারারাত সামুকে চিন্তার রাজ্যে এনে সবটুকুতেই তার বসবাস বানিয়ে নিয়েছে! বাসা খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টা টা তার কাছে সৌভাগ্যের বিষয়ে পরিনত হয়েছে! কিন্তু বেলাল ভাই যেভাবে তার নামে বলেছে, এমন মানুষকে বন্ধু হিসেবে নেওয়া মানে নিজেকেও তাদের দল ভুক্ত করা তাই পলাশ সামু কে সামসুল রুপে ফিরিয়ে আনার ব্রত করে নেয় সেই রাতেই। রবিবারে তাকে মিরপুরের মিনাবাজারে এনে কাজে ঢুকিয়ে দেয় বেলাল, দিন যেতে থাকে, সময়ে অসময়ে সামু পলাশের সাথে দেখা করতে আসে, সুযোগ পেলে কথা বলতে চায়, সামু নিজেকে অনেটাই গুটিয়ে নেয় সবকিছু থেকে, অপেক্ষায় ছিলো সরকার বদলের, দেখতে দেখতে সেটাও হয়ে যায়।

পলাশ মিরপুর বাংলা কলেজে ভর্তি হয়েছে, সামু তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, পলাশ তাকে কখনোই পাত্তা দেইনি কেননা সে চেয়েছে সামু নয় সামসুল হয়ে ফিরে আসলে তার মনে জায়গা করে দেবে, সামু হয়ে ওঠার পেছনে সব ইতিহাস পলাশ জানে, মানুষ ছোট হলেও সামুর যৌন পরিচয় তার জানা ছিল, তাইতো ভালোবাসার জন্য তার মাঝেও তার মতো করেই চাওয়ার সৃষ্টি করে নিয়েছে! কোন এক বসন্তের প্রথম দিনে সামু নামের মানুষটা সামসুল নাম ধারণ করে ঠিক সেই চার বছরের অবুঝ শিশুর মতো ফিরে আসে পলাশের জীবনে! সংগৃহিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ