সিসি নিউজ: নিজের নির্বাচনী এলাকায় বৃদ্ধাশ্রম এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য মানবপল্লী বানিয়ে ওয়ার্ল্ড লিডারশিপ ফেডারেশনের (ডব্লিইউএলএফ) পুরস্কার পাচ্ছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি।
সোশাল ইনোভেটর ক্যাটাগরিতে দিনাজপুর-৩ আসনের এই সংসদ সদস্যকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক অনুষ্ঠানে ইকবালের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হবে বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর সদরের বাংগিবেচা ঘাট এলাকায় ২০১২ সালে হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য ‘মানবপল্লী’ গড়ার কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে ৮০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে সেখানে পুনর্বাসিত করা হয়েছে বলে ইকবালুর রহিম জানিয়েছেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্থ থেকে পুনর্ভবা নদীর তীরে ওই পল্লী গড়ে তোলা হয়েছে। পুনর্বাসিত হিজড়াদের পুকুরে মাছ চাষ, হস্তশিল্প, বিউটি পার্লারে কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
“এই মানুষগুলো আমাদের পরিবারেরই সদস্য। কিন্তু তাদের পরিবার তাদেরকে গ্রহণ করে না, তারা অবহেলিত। অথচ অবহেলা না করে একটু যতœশীল হলেই তারা সমাজের সাধারণ সদস্যদের মত আচরণ ও সহাবস্থান করতে পারে।হিজড়াদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও তাদের জীবন মান নিয়ে কেউ ভাবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। অনেক আলোচনা, নাটক- অনুষ্ঠান হয়, কিন্তু তাদের জীবন-মান উন্নত করার বিষয়ে কেউ ভাবে না। আশ্রয়ন প্রকল্প শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি প্রকাশ করিনি যে এখানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের পুনর্বাসন করা হবে। কাজ শেষে তাদের এখানে আনা হয়েছে।”
এানবপল্লীতে হিজড়াদের থাকার জন্য ঘর বানিয়ে দেয়া হয়েছে; তাদের কাছে জমির দলিলও হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ইকবলুর রহিম জানিয়েছেন।
ডড়ৎষফ খবধফবৎংযরঢ় ঋবফবৎধঃরড়হ অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সামাজিক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সংস্কার ও সৃজনশীলতার জন্য ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে অ্যাওর্য়াড প্রদান করে থাকে। বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে তাদের সংস্কার ও সৃজনশীল কার্যক্রমের তথ্য আদান প্রদান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন করাই ডখঋ-এর মূল লক্ষ্য। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করে মানবপল্লী গড়ে তোলা, বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ ও সামাজিক কর্মকা-ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ২০১৭ সালের জন্য সোস্যাল ইনোভেটর ক্যাটাগরিতে এই অ্যাওর্য়াড প্রদানের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দুবাইতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মানসূচক অ্যাওর্য়াডটি প্রদান করা হবে। উক্ত অ্যাওর্য়াডটি সংসদ-সদস্য হিসেবে তাঁর ও সকল সংসদ-সদস্য এবং দেশের জন্য অনুপ্রেরণা ও সম্মান বয়ে আনবে। তিনি অ্যাওয়ার্ডটি গ্রহণ ছাড়াও পরের দিন আয়োজক কমিটির সাথে একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।