• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন |

দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলরদের সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি: গত ১২ ফেব্রুয়ারী বিকেলে দিনাজপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশরাফুল আলম রমজান কর্তৃক ভিত্তিহীন অভিযোগে মাসিক সভায় ভাংচুরসহ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে পৌর মেয়র, হিসাবরক্ষক ও সহকারী প্রকৌশলীর রুমে তালা দেয়ার মত অনাকাংখিত ঘটনা আমাদের অন্যান্য কাউন্সিলরদের হতবাক করেছে। দিনাজপুর পৌর পরিষদসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দারুনভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আমাদের কাউন্সিলরদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তার এহেন কার্যকলাপ, আচরণ শৃঙ্খলা পরিপন্থি। এ ঘটনা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে দিনাজপুর পৌরসভার ফাতেহুল আলম দুলাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আহাম্মেদুজ্জামান ডাবলু।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত ১২-০২-২০১৭ তারিখ রোববার বিকেল ৪টায় পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আহমেদুজ্জামান ডাবলু’র সভাপতিত্বে মাসিক সভা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ১২ং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশরাফুল আলম রমজান উত্তেজিত হয়ে এজেন্ডা বহির্ভূত অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র সভা মূলতবি করতে বাধ্য হন।
এ সময় ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশরাফুল আলম রমজান পৌরসভার কয়েকটি রুমে তালা লাগানোর প্রস্তাব দেন। পৌর পরিষদ তার প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তিনি সভাকক্ষে ভাংচুর শুরু করেন। এক পর্যায়ে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী মো. বদিউজ্জামান ফারুকী জুয়েল ও হিসাবরক্ষকের রুমে তালা লাগিয়ে দেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে লিফলেট, ব্যানার ও মাইক লাগিয়ে প্রতিবাদ সভা করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই ব্যানারে লেখা হয়েছে সকল কাউন্সিলরবৃন্দ। পরে ইলেক্ট্রিক মিডিয়া, অন্যান্য সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর বের যে সকল “কাউন্সিলারবৃন্দ একজোট হয়ে মেয়রকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে”। যা মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা মাত্র।
তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে সেদিনের ঘটনা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। এই ঘটনার সাথে ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশরাফুল আলম রমজান ছাড়া অন্য কোন কাউন্সিলর বা পৌসভার কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা নেই। তিনি মিথ্যাচার করেছেন। সেদিন মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে মর্মে যে কথা বলা হয়েছে তাও সঠিক নয়। কারণ এ ধরণের কোন সিদ্ধান্ত বা কথাবার্তা বলার সুযোগই সেদিন হয়নি। তার আগেই মাসিক সভা মূলতবি হয়ে যায়। মেয়রকে অবরুদ্ধ করার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাও সঠিক নয়। কারণ মেয়র সেদিন অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যে ১৪টি অভিযোগ এনে ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল আলম রমজান সেদিন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পৌরসভা চত্ত্বরে সাংবাদিকদের সম্মুখে বলেছেন তার মধ্যে গাড়ীর তেল, বাড়ীর ট্যাক্সের এ্যাসেস্টমেন্ট, বাজারসহ কয়েকটি বিষয়ে  ইতোমধ্যে দুদক এবং জেলা প্রশাসন তদন্ত করেছে। এ ছাড়াও মেয়র দরপত্র ছাড়াই লক্ষ লক্ষ টাকা অনুমোদনের কথা কলা হয়েছে তাও সঠিক নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, মেয়র জরুরী ভিক্তিতে কোটেশনের মাধ্যমে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৯৫ টাকার অনুমোদন দিয়েছেন যা তার ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। একজন মেয়র রাজস্ব ফান্ড হতে জরুরীভাবে ১০ লক্ষ টাকার পণ্য ও ২০ লক্ষ টাকা কার্য কোটেশনের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। অন্যান্য অভিযোগগুলো নিয়ে গত ১৬-০২-২০১৭ তারিখের মাসিক মূলতবি সভায় মেয়রের নিকট জানতে চাইলে তিনি সভায় সন্তোষজনক উত্তর দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পৌর পরিষদের কাউন্সিলরদের কোন সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে বলেন, কাউন্সিলর মো. আশরাফুল আলম রমজানের এহেন কার্যকলাপ ও আচরণ শৃঙ্খলা পরিপন্থি। উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার ২নং প্যানেল মেয়র ও ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রেহাতুল ইসলাম খোকা, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোস্তফা কামাল মুক্তিবাবু, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জিয়াউর রহমান নওশাদ, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মাসদুল ইসলাম মাসুদ, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জ, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু তৈয়ব আলী দুলাল, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সিদ্দারাতুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মোছাঃ মাকসুদা পারভীন মিনা, শাহিন সুলতানা বিউটি, মাসতুরা বেগম পুুতুলসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ