মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রংপুর বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরনীতে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৫৮টি উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা এবং শ্রেষ্ট উপজেলা প্রশাসন হিসেবে সন্মাননা প্রদান করা হয়।
রংপুরে বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৭ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে তাঁকে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার সম্মাননা দেয় মুল্যায়ন কমিটি। মুল্যায়ন কমিটির সদস্য ছিলেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের সিনিয়র সচিব ও রংপুর বিভাগীয় ডিজিটাল মেলার সমন্বয়ক মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের জনপ্রশাসন প্রেক্ষিক বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা, রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মজিদ।
দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, পুরস্কার পাওয়ার আশায় আমরা এসব জনহিতকর কার্যক্রম পরিচালনা করিনি। তবে এ স্বীকৃতি আমাদেরকে ভবিষ্যতে জনগণের সেবা প্রদানে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে।
উল্লেখ্য, বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন পুরস্কৃত করা হয়। সদর উপজেলার সেবার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নগদ ই টিন, যে কোন অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধান, প্রশিক্ষণের যে কোন আবেদন গ্রহণ, উত্তরাধিকার সম্পদ বন্টন, নগদ ভিসা যাচাই, কীটনাশকমুক্ত ফল বের করা, যে কোন সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রামের তথ্য গ্রহণ, ভারতীয় ভিসার আবেদন, পুলিশ ভেরিফিকেশন আবেদন প্রেরণ, সার্টিফিকেট মামলার সর্বশেষ অবস্থা যাচাইসহ অন্যান্য সেবা প্রদান।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান’র উদ্ভাবনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফ্রিল্যান্সিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেকারদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বৈদেশিক ও স্থানীয় কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা, সদর উপজেলার উথরাইল ইউনিয়নকে ডিজিটালাইজড এ রুপান্তর করে ইউনিয়নের প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের ডাটাবেসের আওতায় নিয়ে আসা, সার্টিফিকেট মামলার অনলাইন ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট’র মাধ্যমে সদর উপজেলার সকল সার্টিফিকেট মামলার জন্য নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরী, উপজেলার সব মানুষের অভিযোগ, জমি বিষয়ক যে কোন ডকুমেন্ট ইমেইল ও এসএমএস’র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে গণশুনানি নামে নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরী, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, শিক্ষার গুনগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনলাইন এটেনডেন্স’র আওতায় নিয়ে আসা, উপজেলার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে প্রতিমাসে আইসিটি ট্রেনিং প্রদান, ইউনিয়ন পর্যায়ে রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে বয়োজ্যৈষ্ঠদের নিয়ে “লালঘর” নামক মুরুব্বী ছাউনি স্থাপন, উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী তথা আদিবাসীদের ডাটাবেজ সম্বলিত সফটওয়্যার তৈরী, সদর উপজেলায় ৩৬টি ক্লিনিকে ভিজিডি সুবিধার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগসহ মডেল ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা।