• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন |

ডোমারে গণধর্ষনের শিকার স্কুলছাত্রী এখন বধূ

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে পুলিশ কনষ্টেবল প্রেমিক ও তার বন্ধুদের হাতে গনধর্ষনের শিকার কিশোরী প্রেমিকার ঠাই হল প্রেমিক বন্ধুর বাড়ীতে বধু হিসাবে। বিয়ের মাধ্যমেই অবশেষে গনধর্ষনের সমাপ্তি টানলেন ধর্ষক প্রেমিক। ধর্ষিতাকে বধু হিসাবে বাড়ীতে নেযার পর এলাকার হাজার হাজার মানুষ নুতন বউকে দেখতে ধর্ষক বরের বাড়ীতে ভিড় করছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকার দলীয় কতিপয় নেতার উদ্দ্যোগে বিষয়টি বিয়ের মাধ্যেমে এভাবে নিস্পত্তি হয়।

জানা যায়, জেলার ডোমার উপজেলার জামিরবাড়ী চাগধাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে ফরহাদ হোসেন জীবনের সাথে পুর্ব সোনারায় ধনী পাড়া গ্রামের ফারুক এর মেয়ে স্থানীয় সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী কিশোরী ফারহানা আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। প্রেমিক ফরহাদ হোসেন সদ্য পুলিশ কনষ্টেবল পদে চাকরী নিয়ে বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন। ফারহানার বাবা ফারুক হোসেন জানায়, গত ২৯ জানুয়ারী বেড়ানোর কথা বলে ফরহাদ হোসেন জীবন তার কয়েক বন্ধু মিলে ফারহানাকে তার বাড়ীর পার্শ্ববর্তী সড়ক হতে মোটর বাইকে করে নিয়ে যায়। এরপর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে জীবন তার অপর চার বন্ধু মিলে ফারহানাকে গন ধর্ষন করে বিকালের দিকে বাড়ীর অদুরে একটি মাঠে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় ফারহানা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লে তাকে নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা নেয় ফারহানা। এ ঘটনায় ৬ ফেব্রুয়ারী ডোমার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ফারহানার বাবা ফারুক। অভিযোগ দায়েরের পর ডোমার থানার ওসি তদন্ত হারেসুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করলেও গত দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও মামলা হিসাবে গ্রহন করে নাই। এর ফলে একদিকে চলে পুলিশি তদন্তের নামে সময়ক্ষেপন ও অপরদিকে উভয় পরিবারের মধ্যে চলে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা। এরই এক পর্যায়ে উভয় পরিবার ফারহানার নামে .৬০ একর জমি লিখে দেয়া ও ২৬ লক্ষ টাকা দেনমোহরে ফরহাদ হোসেন জীবনের সাথে ফারহানার বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মীমাংসা অনুযায়ী গতকাল রাতে স্থানীয় আবু মাওলানা নামের জনৈক ব্যাক্তির উকিলে তার বাড়ীতে চুপিসারে ফারহানার সাথে ফরহাদ হোসেন জীবনের এফিডেভিড এর মাধ্যেমে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে। এর পর রাতেই নুতন বউকে নিয়ে বাড়ীতে যায় বরপক্ষ। গনধর্ষনের বিচার না হয়ে এর পরিনতি বিয়েতে গিয়ে মিশে যাওয়ায় এলাকার নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফারহানার বাবা ফারুক জানায়, এখন বিয়ে নয়, আংটি পরিয়ে রাখা হয়েছে। মেয়ের বয়স পুর্ন হলে বিয়ে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে সকল সিদ্ধান্ত তার আত্বীয় স্বজনেরা নিয়েছেন তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেননি শুধু শুনেছেন বলে দাবী করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ