• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন |

জিহাদের বাবা: আমি ন্যায় বিচার পাইনি

ঢাকা: রায় প্রকাশের পর রোববার দুপুরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশু জিহাদের বাবা নাসির ফকির বলেন, এ রায়ে আমি ন্যায়বিচার পাইনি ।
নাসির ফকির বলেন, “আমার ছেলেকে ছয়জনে মিলে হত্যা করেছে। অথচ আদালত চারজনকে শাস্তি দিয়েছেন। অপর দুইজনকে খালাস দিয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব।
রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ের পরিত্যক্ত পানির পাম্পের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের (৩) মৃত্যুর মামলায় চারজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মেসার্স এসআর হাউসের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে আবদুস সালাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের সিনিয়র সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (নলকূপ পরিদর্শন) মো. জাহাঙ্গীর আলম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ শাকি।
আদালত এই মামলা থেকে কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দীপক কুমার ভৌমিক ও সহকারী প্রকৌশলী-২ মো. সাইফুল ইসলামকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় জিহাদ পাইপের মধ্যে পড়ে যায়। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাতভর ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ব্যর্থ হয়। পরের দিন দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান শিশুটি পাইপে নেই বলে ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেন।
এর পর শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করেন মজিদ, লিটু ও আনোয়ার নামের তিন ব্যক্তি। তাঁদের তৈরি একটি ক্যাচারের মাধ্যমে জিহাদকে টেনে তোলা হয়।
ওই ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ফকির ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর একটি মামলা করেন। পরে গত বছরের ৩১ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালতে বদলি হয়ে আসে।
গত বছরের ৪ অক্টোবর ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ