ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন উপলক্ষে শনিবার দুপুরে এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, “সত্যিকারভাবে যারা ছাত্র, তারা যাতে ছাত্র নেতৃত্বে থাকে। ৪৫, ৫০ বছর বয়সের একটা ব্যক্তি যদি এখানে ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব দেয়, এই ইউনিভার্সিটির ২০, ২২, ২৩ বছরের ছেলেমেয়েরা যারা আছে, তাদের সঙ্গে তাদের অ্যাডজাস্টমেন্টটা কী করে হতে পারে। এটা তো আমি বুঝি না।”
তিনি বলেন, “ঢাকা ইউনিভার্সিটি যে ডাকসু নির্বাচন, ইজ এ মাস্ট (হতেই হবে)। এই ডাকসু নির্বাচন করা দরকার। ডাকসু নির্বাচন যদি না হয়, তাহলে, মানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এ দেশের জন্য একটা শূন্যতা সৃষ্টি হবে।”
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ সময় শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সমুন্নত রেখে নিজ নিজ জায়গা থেকে অবদান রাখার তাগিদ দেন।
সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. অমিত চাকমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বক্তব্য দেয়ার আগে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের সুপারিশে ৬১ জনকে পিএইচডি, ৪৩ জনকে এমফিল ও ১৭ হাজার ৮৭৫ জনকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর ৯৪টি স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত ৮০ জনকে পদক দেন।
পদক দেয়ার পর বক্তব্য দেন ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক অমিত চাকমা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এবং উপাচার্য অধ্যাপক অমিত চাকমাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণ থেকে সমাবর্তনের শোভাযাত্রা শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হয় সমাবর্তনের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সমাবর্তন উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন। সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া কালো গাউন আর সমাবর্তন ক্যাপ পরে এসেছেন। জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করছেন তারা।