নীলফামারী প্রতিনিধি: দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে গবেষনা আর দুর্নীতি একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হওয়ায় তদন্ত ধামা চাপা দেয়া সহ প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রজনন কেন্দ্রের ভবিষ্যত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, ওই কেন্দ্রে উৎপাদিত কার্ডিনাল সহ বিভিন্ন জাতের প্রজনন ও ভিত্তি মানের আলু বীজ ৫৮ টাকা কেজি দরে চলতি মৌসুমে বিক্রির স্বাভাবিক দর ছিল। এ দামে আলু বীজ বিক্রয় না হলে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ৪০ টাকা দর নির্ধারন করা হয়। এ দামেও বীজগুলো বিক্রয় না হওয়ায় ১৩ ডিসেম্বর ২৫ টাকা নতুন দর নির্ধারন করা হয়। কিন্তু বিক্রয় কমিটির সভাপতি কেন্দ্রর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করায় সর্বশেষ দর ২৫ টাকা দরেও আলু বীজগুলো বিক্রয় করা সম্ভব হয় নাই। এক পর্যায়ে সাইফুল নামের এক আলু চাষী ১৪ টাকা কেজি দরে প্রজনন কেন্দ্রে রক্ষিত ১৩০ টন আলু বীজ ক্রয়ে রাজী হয়। এজন্য গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা বিক্রয় শীটে স্বাক্ষর না করায় সে সময় আলু বীজ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রির ব্যাপারে পরিচালক ও মহা-পরিচালকের অনুমতি থাকলেও আশিষ কুমার সাহা তার দায়িত্বহীনতা ও ব্যাক্তিস্বার্থের কারনে বিক্রয় শীটে স্বাক্ষর করেনি বলে অভিযোগে প্রকাশ। এমনকি ক্রেতাকে তিনি তার ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে হুমকি ধমকি দিয়েছেন যাতে তারা সরকারী বীজ ক্রয় না করে। এর ফলে ওই কেন্দ্রের ১৩০ টন বীজ আলু পরবর্তীতে ১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। এতে সরকারের অর্ধকোটি টাকা সহ সুদুর প্রসারী ক্ষতি হয়েছে। এ আলু বীজ পচে যাওয়ার কারনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট এর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মিজানুর রহমান খন্দকার স্বাক্ষরিত একটি আদেশে ১৩০ টন আলু বীজ পচে যাওয়ার কারন, ক্ষতির আর্থিক পরিমান, প্রকৃত দোষী ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিবর্গ, দায় দায়িত্ব নির্ধারন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণনয়নের লক্ষ্য বারি জয়দেবপুর, গাজীপুরের পরিচালক (পরিকলপনা ও মুল্যায়ন) ডঃ শোয়েব হাসানকে প্রধান ও অপর ৩ জনকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার স্বারক নং-২অ-৭৩০/২০১৫/প্রশাসন/৮৫৪৩, তারিখ ০৮/০১/২০১৭ খ্রিঃ। এ কমিটি কাজ শুরু করার পর অজ্ঞাত কারনে একই কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশ যার স্বারক নং-২অ-৭৩০/২০১৫/প্রশাসন/১০১৩০, তারিখ-০৬/০২/২০১৭৭ খ্রিঃ এর আদেশে তা বাতিল করা হয়। এবং বিধি লংঘন করে একই দিনে ওই কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবেদ আলী যার চাকুরীর মেয়াদ রয়েছে ৯ মাসের মত তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা কাউন্সিল এর সদস্য পরিচালক (কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীন সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ) ডঃ আশম আনোয়ারুল হক কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি আলু বীজ পচে যাওয়া তদন্ত না করে তদন্ত করবেন ওই কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবেদ আলী’র ২০১৩, ২০১৪ ২০১৫ সালের ভুমি উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আলু প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিক সংক্রান্ত কাজের বাস্তবায়ন এবং অফিস উপস্থিতি ও ব্যাবস্থাপনা বিষয় সহ অপরাপর বিষয় সমুহ। এর ফলে চাপা পড়ে যায় আলু বীজ পচে যাওয়ার তদন্ত কার্যক্রম। ওই কেন্দ্রের প্রধান উৎপাদিত শষ্য আলু বীজের পচনকে ঘিরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট এর প্রথমে কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারনে বাতিল করে দেয়াকে ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে ৩ বছর আগের বাস্তবায়িত কাজের কথিত তদন্তকে ঘিরে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ডঃ আশম আনোয়ারুল হক সাংবাদিকদের জানান, আমাদের হাত বাধা, আমরা আমাদের নির্ধারিত বিষয় সমুহের বাইরে কোন কাজ করতে পারব না তবে প্রজনন কেন্দ্রের অন্যান্য বিষয়গুলি তারা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানাবেন, এর বেশী তারা বলতে রাজী হন নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেবীগঞ্জ প্রজনন কেন্দ্রের উন্নয়নের চেয়ে কর্মকর্তাগন নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে বেশী ব্যাস্ত রয়েছেন। ওই কেন্দ্রের অনিয়ম দুর্নীতির একাধিক তদন্ত হলেও তা রয়ে গেছে সেই তিমিরেই। বরাবরের মত লোক দেখানো তদন্ত শেষ হলেই আবারো বেড়ে যায় কর্মকর্তাদের অনিয়ম আর দুর্নীতি। যেন দেখার কেউ নেই।