• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন |

নামেই রাজারহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়!

রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে জনবল না থাকায় কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেই সাথে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় ভরে গেছে কার্যালয়টি। গত ১৫ মার্চ বুধবার ওই কার্যালয়টিতে ৩০ মিনিট অবস্থান করে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৪০ মিনিট। অফিসে এক আধাপাকা দাঁড়িওয়ালা ব্যক্তি। নাম আলমগীর হোসেন। মিশন পদে রয়েছে বলে তিনি জানান। অফিসে একাই কাজ করেন কিনা! জবাবে বলে, না আরো ২/৩ জন রয়েছে। কিন্তু তারা কোথায় তার সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি। এ সময় ইমতিয়াজুল ইসলাম লাভলু নামের এক এনজিও কর্মী স্যানিটেশন বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় আধাঘন্টা অফিসে অবস্থান করেন। কিন্তু উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী না থাকায় তাকেও কোন তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।  কিছুক্ষণ পর এক যুবক অফিসে প্রবেশের সময় জিজ্ঞেস করতেই বলেন, তার বাবার পরিবর্তে তিনি অফিসে দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। নাম শামীম হোসেন। বাবা আঃ মতিন দীঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগে ভূগছেন। সে কারণে পিতার অবর্তমানে সে মাঝে মধ্যেই অফিসে বসেন। সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে মতিয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তি অফিসে প্রবেশ করেন। সে দীর্ঘদিন ওই অফিসে ফিল্ড মেকানিক পদে চাকুরী করে গত বছর অবসরে গেছেন। মিশন আলমগীর হোসেন জানান, এ অফিসে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে মিশন পদের নুরুজ্জামান ও লেবার পদের জাহাঙ্গীর আলম প্রেষনে (ডিপুটিশনে) কুড়িগ্রাম এক্্রচেঞ্জ অফিসে রয়েছে। বাকীদের মধ্যে এমএলএসএস পদের আ. মতিন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য। ফিল্ড মেকানিক মতিয়ার রহমান অবসরে। খোদ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বজলার রহমান এ্যাসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে পদোন্নতি হওয়ায় রাজারহাট অফিসের ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি একাই ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারীসহ ৫  উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাজারহাট অফিসের ন্যামপ্লেটে পূর্বের পদবী এখনও লেখা রয়েছে। বাকী ফিল্ড মেকানিক সাইফুল ইসলাম, আ. রউফ, লেবার রকিদাসকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তাদের হাজিরা খাতার কথা জিজ্ঞাস করতেই বলেন, তালাবদ্ধ রয়েছে। স্যানিটেশন কার্যক্রমের কথা জিজ্ঞাস করতেই জানান, ল্যাট্রিনের কাজ বন্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে টিউবয়েলের কাজ চলছে। বাজেট না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে আগামী জুন-জুলাইতে এডিপির কাজ পাওয়া হলে পুরোদমে কার্যক্রম চালু হবে। তবে বস ছাড়া সব তথ্য তিনি দিতে পারেননি। ভূক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদশীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার মধ্যে এ কার্যালয়টি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু বর্তমান জনস্বাস্থ্য প্রকেীশলী বজলার রহমানের অনিয়মের কারণে কর্মচারীরাও অনিয়ম-দূর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা এতোটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, মানুষ আবারো খোলা জায়গায় মল-মূত্র ত্যাগ ও বিশুদ্ধ পানির পরিবর্তে আর্সেনিকযুক্ত পানি অবাধে পান করছে। এ বিষয়ে সাবেক রাজারহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুনুর মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ২০০৩ সনে রাজারহাট উপজেলাকে শতভাগ স্যানিটেশনের ঘোষনা দেয়া হয়। কিন্তু সঠিক তদারকি না থাকায় মানুষজন আবারো খোলা আকাশের নীচে মল-মুত্র ত্যাগ করছে। এতে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাই তিনিসহ উপজেলার সচেতনমহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-নজর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. বজলার রহমানের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি বর্তমান কুড়িগ্রামে অবস্থান করছি। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক, এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়। এর সমাধানকল্পে আগামী উপজেলা পরিষদের সমন্বয় কমিটির মিটিং-এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সবমিলিয়ে রাজারহাট উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়টিতে বর্তমান হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ