• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন |

গ্রামবাসীর মাঝে আতঙ্ক: বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় ভয়ানক ফাঁটল

সিসি নিউজ: দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার বাড়ি ঘর ও ভূমিতে নতুন করে ভয়ানক ফাঁটল দেখা দিয়েছে । এলাকার গ্রামবাসীদের  মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। অনেকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে পড়ছেন।
পাবর্তীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া  এলাকার ৯ নং হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর, বৌদ্দনাথপুরম, শীবকৃষ্ণপুর গ্রামের বাড়িঘর ও আবাদি জমি এবং চলাচলের রাস্তায় নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে । এমন কি ওই এলাকা দেবে যাচ্ছে। গত ৫ বছর আগে সরকার ওই এলাকার প্রায় ৬’শ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহন করেছেন।  তার মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রাম কয়লাখনির মধ্যে পড়ে যায়। এর মধ্যে কিছু অংশ গ্রাম বাদ পড়ে যায়। এতে এক’শ একর জমি অধিগ্রহন ভুক্ত করা হয়নি । ওই এলাকার গ্রামগুলোর ভু-গর্ভস্থ থেকে কয়লা তোলার কারনে নতুন করে গ্রামগুলোর আবাদি জমি, রাস্তা-ঘাট, বাসাবাড়িতে ফাটল শুরু হয়েছে। গ্রামের মানুষরা এখন আতংকে দিন কাটছে। অনেকে রাতে নিজ বাড়িতে না থেকে অন্যের এলাকায় গিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে রাত কাটাচ্ছে। ইতি পুর্বে এমন ঘটনা ওই এলাকায় হওয়ার পর এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছেন। সেই আন্দোলনে সরকার এলাকার মানুষকে ক্ষতি পুরন দিয়েছেন। সেই ক্ষতিপুরন নিয়ে এলাকার মানুষ সন্তষ্ট নয়। বলা হয়েছিল যারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাদের জন্য নতুন করে কোল মাইনিং বিগসিটি টাউন গড়ে তোলা হবে। যা দেখে এলাকার মানুষ খুশি হবে।
কিন্তু এলাকার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রি তা করতে ব্যার্থ হয়েছেন। এলাকার মানুষ খনি আন্দোলন করতে গেলেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। যাতে কেউ খনির বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে না পারে। এই এলাকার মানুষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা কোন দিন পুরন হওয়ার কথা নয়। স্কুল কলেজ, আবাদিজমি, বাসাবাড়ি, গাছপালা, সাত পুরুষের কবরস্থান, মাদ্রসা, মসজিদ, মন্দির, রাস্তা-ঘাট, হাটবাজার সহ সবকিছু হারিয়েছে। এখন ওই এলাকা বিরানভূমিতে পরিনত হয়েছে।
খনি এলাকায় জীবন পরিবেশ ও রক্ষা কমিটির আহবায়ক মো. মশিউর রহমান বুলবুল হামিদপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁশপুকুর, বৌদ্দনাথপুরম,শীবকৃষ্ণপুর এলাকা গত ৩০ মার্চ সকালে পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি খনি কর্তৃপক্ষকে জানায়।
এ দিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড এর প্রকৗশলী হাবীব উদ্দিন এর সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি । তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে । কি পরিমান এলাকার ক্ষতি হচ্ছে তা সিন্ধান্ত নিবে কমিটি। আতংক হওয়ার কিছু নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে পুর্বের ন্যায় ক্ষতিপুরন দেয়া হবে।
অপর দিকে বৃহস্পতিবার হামিদপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছাদেকুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান তরফদারকে জানানো হয়েছে । বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান তরফদার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি তিনি উধবর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ