নারায়ণগঞ্জ: জেলার বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৪১ মিনিট ৭ সেকেন্ডে মহাষ্টমী স্নানের লগ্ন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে লগ্ন শেষ হবে।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মণ্ডল জানান, মহাষ্টমী স্নানোৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পোষাকে ১০২৭, সাদা পোষাকে ৮০, ট্রাফিক ৭০ আর আনসার ৩৩৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিপিসহ ২ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী থাকবে। ঘাট এলাকাগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার স্নানোৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখের বেশি পূণ্যার্থী অংশ নেবে। রবিবার বিকেল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূণ্যার্থীরা আসা শুরু করেছেন।
যেসব ঘাটে স্নানোৎসব হবে
আড্ডা হরিরামপুর ঘাট, নলিত মোহন সাধু ঘাট, নাসিম ওসমান ঘাট, অন্নপর্ণা ঘাট, রাজঘাট, মাকরী সাধু ঘাট, গান্ধি (শশ্মান) ঘাট, ভদ্রেশ্বরী কালি ঘাট, জয়কালী মন্দির ঘাট, পাষাণকালী মন্দির ঘাট, মনোজকান্তি বড়াল ঘাট, প্রেমতলা ঘাট, মনি ঋশিপাড়া ঘাট, ব্রম্ম মন্দির ঘাট, দক্ষিণেশ্বরী ঘাট, কালীগঞ্জ পঞ্চপাণ্ডব ঘাট ও সাবদী কালীবাড়ি ঘাট।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য শংকর সাহা জানান, স্নানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বছর ১৮টি ঘাটে পূণ্যার্থীরা স্নান করতে পারবে। পূণ্যার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার দেশ-বিদেশ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ পুণ্যার্থী স্নানোৎসবে অংশ নিতে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে এবার নিরাপত্তার জন্য ব্যপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার দিয়ে সব কিছু সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। ছিনতাই, অপরাধ তৎপরতা বন্ধে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সকালে লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে মহাষ্টমী স্নানোৎসবে বেইলি সেতু ভেঙে পড়ার গুজব ছড়ালে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে সাত নারীসহ ১০ জন পূণ্যার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও ২০জন।