মোঃ হাবিবুর রহমান, চিলমারী: কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান শুরু হয়েছিল সোমবার বিকাল ৫টা ৪১ মিনিট ৭ সেকেন্ড এর পর থেকে তা মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৩২ মিনিট ২৭ সেকেন্ড পর্যন্ত স্নান লগ্ন হিসাবে ধরা হয়েছিল। যার মধ্যে বিষলগ্নে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা ১০ মিনিট হতে ১০টা ৯ মিনিট পর্যন্ত স্নানের উত্তম লগ্ন হিসাবে বিবেচনা করা হবে। লাখো পূণ্যার্থীর পদম্ভে মূখরিত হয়ে উঠেছে চিলমারীর ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা। হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র,হে লৌহিত্য,তুমি আমার পাপ হরণ করো। মন্ত্র উচ্চারণ করে পূণ্যার্থীরা কৃপা চান ব্রহ্মার নিকট। স্নান উৎসবে মেতে উঠেন পূণ্যার্থীরা। সমবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা ভিড় জমান চিলমারী বন্দর, রাজারভিটা, পুটিমারী কাজলডাঙ্গার ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। উৎসব কমিটির নেতারা বলেন প্রতি বছরের মত এবারও ভারতসহ ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক পূণ্যার্থী যোগ দিয়েছেন স্নান উৎসবে তারা আরো জানান তবে স্নান উৎসব যদি বুধবার পরে তখন ভারত ও নেপাল থেকে বেশি সংক্ষক হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আসেন। কোন নির্দিষ্ট ঘাট না থাকায় উমুক্ত স্নানঘাটের মাধ্যমে পূণ্যার্থীরা স্নানপর্ব সম্পন্ন করেছেন। স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে সমাবার থেকে শুরু হয়েছে দুইদিন ব্যাপী লোকজ মেলা। স্নান উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মির্জা মুরাদ হাসান বেগ জানান পূণ্যার্থীদের কল্যাণে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নারীদের কাপড় বদলানোর জন্য বুধের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। ধর্মীয় সামাজিক ও সেবা মূলক সংঘঠন ক্যাম্প খোলা হয়েছে। এসব ক্যাম্প থেকে পূণ্যার্থীদের রান্না করা খাবার ও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশী পাহাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা চেয়াম্যান মোঃ শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম, উপজেলা নিবার্হী অফিসার, চিলমারী মডেল থানা অফিসার ইনর্চাজ স্নান উৎসব কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। কথা হয় স্নান দিতে আসা শ্রী লতা রানী, শ্রী পুজা কর্মকার সহ অনেকের সাথে তারা অভিযোগ করে বলেন এবারেও অতান্ত লাজুক অবস্থা গোছলের জন্য নিদিষ্ট কোন ঘাট না থাকায় এবং গোছলের পর মহিলাদের কাপড় বদলানোর জন্য তেমন বুদের ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন মহিলা পূনার্থীরা কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ, চিলমারী উপজেলা সভাপতি শ্রী কর্নধর বর্মা জানান প্রায় দুই লাখ পূণ্যার্থী স্নান উৎসবে যোগ দিয়েছে বলে তারাঁ আশা করছেন তিনি আরো জানান দেশের পরিস্থিতি ভালো না থাকায় গতবারের চেয়ে পূণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক কম হয়েছে।