চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতকস্থ লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের ভারি যানবাহন শ্রমিকদের চাকুরি স্থায়ীকরনের দাবিতে ২০১২সালের ৯ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ২য় শ্রম আদালতে পরিবহন শ্রমিক ২৩টি আইআর মামলা দায়ের করেন। এতে লাফার্জ কর্তৃপক্ষ মামলাগুলো খারিজের আবেদন করলে ২০১৪সালের ২৫ফেব্রুয়ারি ২য় শ্রম আদালত চট্টগ্রাম তা- না মঞ্জুর করেন। পরে ঢাকা শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল মামলা দায়ের করলে ২০১৪সালের ১০এপ্রিল লাফার্জের আপীল মামলাও ডিসমিস হয়ে যায়। এতে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সূযোগ-সূবিধা বহাল রাখার আদেশ দেন। এরপরও শ্রমিকদের চাকুরী বহালও স্থায়ী না করে মাননীয় হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা (নং ৮৬৮৪/২০১৪ইং) দায়ের করেন। দীর্ঘ ৩বছর পর গত ২০১৭সালের ৩০মার্চ উচ্চ আদালত আবারো শ্রমিকদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি তরিকুল হাকিমও বিচারপতি এমডি ফারুক (এম ফারুক) সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নিম্ন আদালতকে শ্রমিকদের স্থায়ীকরন মামলা নিষ্পত্তি করার আদেশ দেন। এরসাথে তাদের বেতন-ভাতার আদেশ বহাল রাখেন। লাফার্জের পরিবহন শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি খালেদ মিয়াও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী জানান, ৩বছর যাবত রায়ের পরও বেতন-ভাতাদি না দিয়ে লাফার্জ কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের চরম হয়রানী করে যাচ্ছেন। তারা শ্রমিকদের হয়রানি করার সব পথই অবলম্বন করে অবশেষে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এসব হয়রানিতে শ্রমিকরা অসহায়ভাবে মানবেতর জীবন করছে। এনিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কয়েকদফা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্টিত হয়েছে। তারা বলেন, এযাবত আদালতের ৩টি রায় পেয়েছেন। তাদের অধিকার আদায়ে আদালতের আশ্রয় নেয়া কি অপরাধ ছিল? যে অজুহাতে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়। তারা মামলার আগে লাফার্জকে বার বার লিখিতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন। এতে তারা সাড়া না- দিয়ে উল্টো তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও হুমকিসহ হয়রানী করার পথ বেছে নেয়া হয়। পরিশেষে তারা দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে অনুরুধ জানিয়ে বলেন, দেশে আর যেন কোন শ্রমিক হয়রানী না- হয়। এক্ষেত্রে সবার সজাগ দৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তারা। এছাড়া নেতৃবৃন্দ আদেশের সার্টিফাইড কপি হাতে পেলেই চট্টগ্রাম ২য় শ্রম আদালতে আইনী প্রক্রিয়া সেরে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্টিত করবেন বলে জানিয়েছেন।
ছাতকে দু’শশিুর উপর অমানবিকতা
কি অপরাধ ছিল দু’সহোদর শিশুর! এমন কোন অপরাধ করেছে যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দু’জনের শরীর ঝাঁঝরা করে দেবে। তারা এখন ঝাঁঝরা শরীরের চিকিৎসায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রহর গুনছে। এ নির্মমতার শেষ কোথায়? মানুষের বিবেক আজ কত নীচে গিয়ে ঠেকেছে তা- ভাবলে অবাক হতে হয়। অথচ এ অমানবিকতার পরও সন্ত্রাসী কায়দায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে নরপশুরা। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দু’শিশু শিক্ষার্থীসহ ৪জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিবেশী কতিপয় নরপশু। গত ১এপ্রিল উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের সাউদপুর গ্রামের ইনসান আলীর পুত্র নতুনবাজার (ধারণ) দাখিল মাদরাসার ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র আবু সূফিয়ান (১২) ও কটালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর ছাত্র তোফায়েল আহমদ (৯) এর উপর এ বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী সমশের আলীর পুত্র সুন্দর আলী, শিমুল, জয়নালও জমিরের নেতৃত্বে এহামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এব্যাপারে শিশুদের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদি হয়ে ছাতক থানায় একটি মামলা (নং ২, তাং ০২.০৪.২০১৭ইং) দায়ের করেছেন। গত ৬এপ্রিল সুন্দর আলীও শিমুল সুনামগঞ্জ আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে বিঞ্জ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তবে তোফায়েল ও আবু সূফিয়ানের অবস্থা এখনো আশংকাজনক বলে জানা গেছে। এসময় শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে আরো দু’জন আহত হয়েছে। এব্যাপারে থানা অফিসার্স ইনচার্জ আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান।