• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন |

প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত শিক্ষা কর্মকর্তা মেনজিস

সিসি ডেস্ক: শুধু শিক্ষকই নন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো হীনকাজে জড়িত রয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও। প্রশ্নপত্র ফাঁসেচক্রের অন্যতম প্রধান হোতা হিসেবে নাম এসেছে সাভারের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার মেনজিসের বিরুদ্ধে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান,  কলেজ ও কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিজি প্রেসের কর্মীদের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্যও রয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে কয়েকদিন আগে সাভার উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহরিয়ার মেনজিসকে ডিবিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া সাভারের ‘সৃষ্টি শিক্ষা পরিবার’ নামে একটি কোচিং সেন্টারের মালিক ড. শফিকুল ইসলাম রিপনকেও ডেকে নেয়া হয়। এই দুই জনের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

ডিবির ওই কর্মকর্তা আরো জানান, সাভার উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর এক ঘন্টা আগে মোবাইল ফোন দিয়ে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলেন। প্রশ্নপত্রের ওইসব ছবি কয়েকটি কোচিং সেন্টারের মালিক ও একটি স্কুলের অধ্যক্ষের কাছে মোবাইল ফোনের ‘ভাইবার’ অ্যাপ এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর তথ্য থেকেই ডিবি পুলিশ শাহরিয়ার মেনজিসকে ডেকে আনে। ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, শাহরিয়ার মেনজিসের মাধ্যমে রাজধানী ও এর আশেপাশের বেশ কিছু স্কুল-কলেজ ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের কাছে প্রশ্নপত্রের ছবি পৌছেছে। প্রশ্নপত্রের ছবি পাঠানোর তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাজধানীর মতিঝিল কলোনি হাই স্কুল, কমলাপুর রেলওয়ে স্কুল অ্যন্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মানিকনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও শাহজাহানপুর রেলওয়ে হাইস্কুলসহ আরো বেশ কয়েকটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়া ঢাকার বাইরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাভার ও আশুলিয়ার দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যে গাজীপুরের কোনিয়া ও অভিনব কোচিং সেন্টার, মানিকগঞ্জের জয় একাডেমি এবং জ্ঞানকোষ একাডেমিসহ আরো বেশ কয়েকটি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আশুলিয়ার সৃষ্টি শিক্ষা পরিবার নামে একটি কোচিং সেন্টারের সারাদেশে ১৫টি শাখাও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের কয়েকজন সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের আরো বেশ কিছু সদস্য রয়েছেন। এরা ভূয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন কিনা-তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে নিশ্চিত হলেই তাদেরকে আটক করা হবে।’

গত ২৮ মার্চ রাজধানী ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ একজন অধ্যক্ষসহ ১১জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে আশুলিয়ার এ এম গাজীর চক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোজাফফর হোসেন, একই কলেজের শিক্ষক আতিকুল ইসলাম, অফিস সহকারী আব্দুল মজিদ, ছাত্র আরিফ  হোসেন আকাশ ওরফে আদু ভাই, রাকিব  হোসেন সাইদুর রহমান ও তানভীর  হোসেন এবং টঙ্গীর  কোনিয়া  কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হামিদুর রহমান ওরফে তুহিন, উত্তরার সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও কমলাপুর শের-ই-বাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ক শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম ইতিমধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিয়েছেন। আর এসব জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের রাঘব বোয়ালদের নাম। জবানবন্দিতে অন্তত ৫০ জন শিক্ষকের নাম এসেছে যারা সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষকরা সকালে প্রশ্নপত্র পেয়েই অভিভাবকদের কাছে ‘ভাইবার’ এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। একই ভাবে ১৫ টি কোচিং সেন্টারের মালিকদের কাছে ছবি আকারে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়।

এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য অধিকার আইনে চাহিদামতো তথ্য না দেয়ার অপরাধে গত বছর মেনজিসকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তথ্য কমিশন।

মেনজিসসহ কয়েকজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ধানমন্ডিতে কোটি টাকা দামের ফ্ল্যাটে বসে বছরের পর বছর নানা অপকর্ম করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইত্তেফাক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ