• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন |

ডিমলায় অস্তিত্বহীন প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করনের তালিকায়!

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় অস্তিত্বহীন একটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম উঠেছে জাতীয়করনের তালিকায়। কাগজে কলমে স্কুলটির অস্তিত দেখানো হয়েছে উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ি গ্রামে। পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করনের সঙ্গে ওই বিদ্যলয়ের  চারজন শিক্ষককের নামভুক্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে ঘটনাটি ফাস পড়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীর খুটির জোড়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কাগজে কলমে স্কুলটির অস্তিত দেখিয়ে সুপারিশ প্রেরনের মাধ্যমে এটি জাতীয় করন করা হয়। জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় বিদ্যালয়-১ শাখা কর্তৃক (স্বারক নম্বর ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.১৪.০১.২০১৫-১১৯) চলতি বছরের ২৩ মার্চ জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে দেশের ৯৯টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করন করা হয়। এরমধ্যে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যায়ের নামের তালিকা রয়েছে ৪৩ নম্বর ক্রমিকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিগ্রহন আইনের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারী হতে ওই সব বিদ্যালয়কে সরকারী নিয়ন্ত্রনে নেয়া হয়েছে। সরেজমিনে পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে স্থানটি বা ঘর দেখানো হয়েছে সেটি আছিয়া খাতুন নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এটি  ২০০১ আগে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন সময়ের গয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বর্তমানে কর কমিশনার আব্দুর রহমান। বর্তমানে এই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান উক্ত আব্দুর রহমানের ছেলে শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন। মুন সাংবাদিকদের জানান, তার দাদীর নামে নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি এখন তার মা লায়লা রহমান পরিচালনা করছেন। এখানে কোন পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না এবং নেই। জানতে পেরেছি আমার দাদীর নামে আছিয়া খাতুন নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জায়গা জমি ঘর দেখিয়ে পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করন করা হয়। এখন শিক্ষকের নামের তালিকা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ শুরু হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ  হয়ে পড়ায় আমরা অবাক হয়েছি। একাধিক সুত্রের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মালেকা বেগম সহ চারজন শিক্ষক ছিল। অপর তিনজন হলো মমতাজ বেগম, ফরিদা আক্তার ও শরীফা খাতুন। এখন সেখানে নতুন করে আরো দুই শিক্ষক যোগ করা হয়। এরা হলো মুক্তা আক্তার ও সুফিয়া খাতুন। প্রভাবশালী চক্রটি ফরিদা আক্তার ও মমতাজ বেগমের নাম বাদ দিয়ে নতুন দুইজন শিক্ষকের নাম জাতীয় করনের জন্য উঠেপড়ে লাগায় ঘটনাটি ফাস হয়ে পড়ে। আছিয়া খাতুন নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দুইশ গজ অদুরে রয়েছে শহীদ স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ময়নুদ্দিন বলেন তিনি জানতে পেরেছে তার স্কুলের কাছেই পশ্চিম খড়িবাড়ি নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন করা হয়েছে। কিন্তু ওই নামে স্কুলের কোন অস্তিত্ব আছে বলে তিনি জানেন না। তিনি জানান, এলাকার সকল ছাত্রছাত্রী আমার স্কুলেই পড়ছে। আছিয়া খাতুন নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আমিন জানান, তার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩১ জন ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানে পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এ ব্যাপারে  সদ্য জাতীয় করন পশ্চিম খড়িবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মালেকা বেগম জানান, কাগজ কলমে তার স্কুল সঠিক ও নিয়ম অনুযায়ী চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি তার স্কুলটি আছিয়া খাতুন নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অভ্যান্তরে বলে দাবী করে বলেন ঢাকা হতে শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে তদন্ত করে স্কুলটি জাতীয়করন করেছে।
এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, আমি নতুন এসেছি, তাই ওই স্কুল সর্ম্পকে কিছু বলতে পারছিনা। তবে এবারের জাতীয়করনের তালিকায় পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ