• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

যেকোনো মুহূর্তে মুফতি হান্নানের ফাঁসি

সিলেট: সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকরের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। যেকোনো সময়ে ফাঁসি হতে পারে বলে জানিয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সকালে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান।
মিজানুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার খবর গত সোমবার দুই আসামিকে জানানো হয়। তাদের স্বজনদেরও কারাগারে এসে শেষ দেখা করতে গতকাল সকালে বার্তা পাঠানো হয়। বুধবার সকালে মুফতি হান্নানের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বড় ভাই ভোরে কারাগারে এসে পৌঁছান। এর আগে কেউ মুফতি হান্নানের সঙ্গে দেখা করতে আসেনি।
এদিকে ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, কারাগারে জল্লাদ ও ফাঁসির মঞ্চ সবকিছুই প্রস্তুত আছে। এরই মধ্যে ফাঁসির মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে ভোর ৬টার দিকে মুফতি হান্নানের সঙ্গে শেষ দেখা করতে কারাগারে আসেন তার স্ত্রী রুমা আক্তার, দুই মেয়ে নাজনীন ও নিশাত এবং বড় ভাই আলিউজ্জামান। সাক্ষাৎ শেষে সকাল সোয়া আটটার দিকে তারা কারাগার ত্যাগ করেন।
সাক্ষাতের পর আলিউজ্জামান কারা ফটকে সাংবাদিকদের বলেন, “মুফতি হান্নান পরিবারের সদস্যদের বলেছেন, যা কিছু হয়েছে আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা সব মামলা মিথ্যা। এর বিচার আল্লাহই করবেন।”
এ সময় দুই মেয়েকে দেখাশোনার জন্য আলিউজ্জামানকে অনুরোধ করেন মুফতি হান্নান।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেল থেকে কারাগার ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হয়।
ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। এর পর নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন।
গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত দণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। ওই বছরের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। আপিলের শুনানি শেষে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল খারিজ  হয়ে যায়।
চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এ রায় প্রকাশের পর আসামিরা রিভিউ আবেদন করেন। ১৯ মার্চ রোববার রিভিউ খারিজ হয়ে যায়। পরে রিভিউ খারিজের রায় গত ২১ মার্চ প্রকাশিত হয়। এর পর কাশিমপুর ও সিলেট কারাগারে রিভিউ আবেদন খারিজের রায় তিন আসামিকে পড়ে শোনানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ