সিসি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। এছাড়া ঘড়-বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার দুপুর ২টায় ঠাকুরগাঁওয়ে কালবৈশাখি ঝড় শুরু হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় গাছপালা, বাড়ি-ঘড় ও আবাদি জমির ফসল। শিলা বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয় ফসলের। এসময় ঝড়ের কবলে পড়ে এক পথচারি মারা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ঝড়ের কারণে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন।
অন্যদিকে হরিপুর উপজেলার কান্দাইল গ্রামের মৃত. আছির উদ্দিনের ছেলে মানিক (৩২) নামে এক পথচারি মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন হরিপুর থানার ওসি তদন্ত।
একই দিনে বিকেলে বৈশাখের প্রথম ঝড়ে রংপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছাড়াও মহাসড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। গাছ চাপায় পীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বিশলা গ্রামে সালেহা বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন।
শনিবার বিকাল থেকে রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত কয়েক দফায় এই ঝড় রংপুরের উপড় দিয়ে বয়ে যায়। বিশেষ করে রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষিপণ্যসহ গাছ-গাছালি উপড়ে পড়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নিতে এরইমধ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছে রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিপ্তরের উপ পরিচালক শ ম আশরাফ আলী।
স্থানীয়রা জানান, বিকাল পাঁচটার কিছু পরে এই ঝড় শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা দিয়ে ঝড় বয়ে গেলেও মিঠাপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মহাসড়কে ছোট বড় অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে। কোথাও কোথাও ভেঙে পড়েছে গাছ-পালা। এতে করে রংপুর অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকাগামী সব ধরনের যান চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। স্থানীয়রা এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে সেগুলো উদ্ধার করে। পরে যান চলাচল করলেও দুর্ভোগে পড়ে মানুষজন।
অপরদিকে, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় কাল বৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঝড়টি শুরু হয়ে বিকেল ৫টার দিকে থামে। একটানা এই ঝড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে যাওয়ায় জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহ্সান হাবীব জানান, জেলার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল এলাকাগুলোতে বাড়ি-ঘর, গাছপালা ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে সাতটি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও। তার পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।