• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সোমবার পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ

সিসি নিউজ: আগামী ২৪ এপ্রিল সোমবার সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ পালিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের কাছে এ রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন।
মুসলিম জাহানের কাছে এ রাতের তাৎপর্য অপরিসীম। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, নফল রোজা রাখা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শবে মিরাজ
পালন করেন। এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজের ইতিহাস ও তাৎপর্য

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী আমাদের সমাজে শবে মেরাজ নামে খ্যাত। মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতে অলৌকিকভাবে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেন। এই রাতে মহানবী (সা.) মহান রবের সাক্ষাতে মিলিত হন। মুসলিম উম্মাহ এই রাতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি ও ধর্মীয় ভাব-আবেগে কাটায়। ইসলামে রাতটির বিশেষ গুরুত্বও রয়েছে। ইসলামের অন্যতম আমল নামাজ এই রাতে উপহার দেন আল্লাহতায়ালা।
ইসলামের ইতিহাস বলে, তখন হিজরি ৬২০ খ্রিস্টাব্দ, আরবি রজব মাসের ২৬ বা ২৭ তারিখ দিবাগত রাত। নবীজি তার দুধ বোন উম্মে হানি বিনতে আবু তালিবের ঘরে আরাম করছেন। ফেরেশতা হজরত জিব্রাইল মহানবী (সা.)-এর কাছে আসেন। আকাশ থেকে আনা হাউজে কাউসারের পানির মাধ্যমে বুক চিড়ে গোসল করান। জান্নাতি পোশাকে নবীজিকে সাজান। হজরত জিব্রাইল মহানবী (সা.)-কে বলেন, আপনার বন্ধু আল্লাহর সাক্ষাতের অনুমতি মিলেছে। চলুন। চলুন আমার সঙ্গে। স্বতঃস্ফূর্ত নবীজি বোরাকে চেপে বসেন। প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় যান। মুসলমানের প্রথম কেবলা- মসজিদুল আকসায় উপস্থিত লাখ লাখ নবী-রাসূল ও ফেরেশতারা মহানবী (সা.) কে অভিবাদন জানান এবং নবীজির পেছনে নামাজ পড়েন। অভিবাদন পর্ব শেষে মহানবী বিশেষ বাহন বোরাক যোগে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহা পেরিয়ে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করেন। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল মহানবীর সফরসঙ্গী ছিলেন। কুরআন শরিফের সূরা বাণী ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি তার এক বান্দা (মুহাম্মদ)- কে মসজিদে হারাম (কাবাঘর) থেকে মসজিদে আকসা (বাইতুল মোকাদ্দাস) পর্যন্ত পরিভ্রমণ করিয়েছেন। এই ভ্রমণে তাকে অসংখ্য নিদর্শনাবলী দেখানো হয়েছে।
মহানবী (সা.) মেরাজের রাতে সাত আকাশ ভ্রমণ করেন। দেখা পেয়েছেন সাত জন্য বিখ্যাত নবীর। প্রথম আকাশে হজরত আদম (আ.), দ্বিতীয় আকাশে হজরত ইয়াহিয়া (আ.), তৃতীয় আকাশে হজরত ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আকাশে হজরত ইদ্রিস (আ.), পঞ্চম আকাশে হজরত হারুন (আ.), ষষ্ঠ আকাশে হজরত মুসা (আ.), সপ্তম আকাশে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে।
সাক্ষাৎপর্ব শেষ করে তিনি সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছেন। এই রাতে মহানবী (সা.) হজরত জিব্রাইল কে আসল আকৃতিতেও দেখেন।
বুখারি শরিফে ৫ খন্ডের ৩৫২ পৃষ্ঠায় হজরত আনাস (রা.) সূত্রে মহানবীর ঘটনার বিবরণে বলেন, অতপর আমি সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলাম। জিব্রাইল আমাকে বললেন, এই বৃক্ষটির নাম সিদরাতুল মুনতাহা। সেখানে চারটি প্রবাহমান নদী পেলাম- দুইটি ভেতরের দিকে প্রবাহিত এবং দুইটি বাইরে। নদীগুলির নাম সম্পর্কে আমি জিব্রাইলকে জিজ্ঞাস করি, তিনি বলেন, ভেতরের দুটি বেহেশতে সালসাবিল ও কাউসার নদী। আর বাইরের দুইটি মিসরের নীল ও ইরাকের ফোরাত নদী। তারপর আমাকে ‘বায়তুল মামুর’ দেখানো হলো। ‘বায়তুল মামুর’ আকাশের একটি ঘর। সেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হয় ইবাদতের জন্য।
তারপর আমার সামনে তিনটি পাত্র পরিবেশন করা হলো, মদ, দুধ ও মধুর। আমি দুধ খেলাম। জিব্রাইল বললেন, দুধ সত্য ও খাঁটি স্বভাবগত ধর্ম ইসলামের প্রতীক। আপনি সত্যও স্বভাবগত ধর্ম ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন এবং আপনার উসিলায় আপনার উম্মতও এর উপর থাকবে। এর পরই মহান রবের সাক্ষাতে ধন্য হন মহানবী। উম্মতের জন্য মওলা পাকের পক্ষ থেকে উপহার পান নামাজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ