নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করায় শ্বশুরের মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা দিয়ে এলাকায় ঘুরিয়েছে জামাতা আতাউর রহমান তোবার।
জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই গ্রামের মৃত কাছের উদ্দিনের পুত্র মজিবর রহমান (৬০) ডিমলা থেকে বাড়ী যাওয়ার পথে খগার হাটে রাত ৯টার চয়ের দোকানে চা খেতে বসে। এমন সময় তার জামাতা খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বন্দর খড়িবাড়ী গ্রামের আতাউল ইসলাম তোবার তাকে দেখতে পেয়ে ওৎ পেতে থাকে। চায়ের দোকান থেকে মজিবর রহমান বের হলে তাকে খগার হাটের পুর্ব দিকে ১ কিলোমিটার রাস্তা টেনে হিচড়ে আতাউলের বাড়ীতে নিয়ে যায়। বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে ব্লেড নিয়ে অর্ধেক মাথা ন্যাড়া করে চুন কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে আবারো বাজারে নিয়ে আসে। রাত ১১টার দিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকার শত শত জনতা খগারহাটে মজিবরকে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে বালাপাড়া ইউপি সদস্য সেলিম আজাদের মাধ্যমে মজিবর রহমানকে নিজ বাড়ীতে পাঠায়।
মজিবর রহমানের কন্যা ছকিনা বেগমের সাথে আতাউল ইসলামের বিয়ে হয় গত ৮ বছরে আগে। গত ২ মাস পুর্বে ছকিনা বেগম আতাউলকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। স্ত্রী ছকিনা বেগম অন্যত্র বিয়ে করার কারনে জামাতা আতাউল ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত ঘটনা ঘটায়।
মজিবর রহমান বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে বাজার থেকে টেনে হেচড়ে বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে চুন কালি লাগিয়ে দিয়ে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে এলাকায় ঘোরায়। আমি প্রশাসনের নিকট বিচার দাবী করছি।
বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি চরম অন্যায়। ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, বিষয়টি জানার পর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মজিবর রহমানকে ইউপি সদস্য সেলিম আজাদের সাথে বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা দিলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।