সিসি ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে কুয়াকাটা সৈকতের অদূরে সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে ঢালচর এলাকায় ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। এসময় ডাকাতদের গুলিতে এক জেলে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার(৫ মে) দুপুরে মোট চারটি মাছ ধরার ট্রলার হানা দেয় জলদস্যুরা। এসময় জলদস্যুদের গুলিতে এফবি জসিম নামের ট্রলারের মাঝি কামাল মাথায় ও বাহুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও জলদস্যুদের হামলায় তিন জেলে অহত হয়েছেন।
গুলির আঘাতে ট্রলার মাঝি কামালের (৪৫) চারটি দাঁত পড়ে গেছে। সেই সাথে শরীরের বিভিন্ন স্থানে (শটগান) অন্তত ছয়টি গুলির আঘাত রয়েছে। কামাল মাঝির এফবি জসিম নামের মাছধরা ট্রলারটিসহ ওই ট্রলারের ১২ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে ডাকাতরা। এসময় আরও ৩টি মাছধরা ট্রলারের ডাকির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের হামলার শিকার হওয়া জেলেরা মৎস্য বন্দর আলীপুর ঘাটে ফিরে শুক্রবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে আমাদের কুয়াকাটা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নারাবাদের এফবি জসিম নামের মাছধরা ট্রলারটিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরের ঢালচর এলাকায় ডাকাতরা হানা দেয়। এসময় ওই ট্রলারের মাঝি কামালকে গুলি করে জেলেদের কাবু করে নেয় ডাকাতদল। ১৮ জেলের মধ্যে ইঞ্জিণ চালক ইদ্রিস, জেলে যথাক্রমে শহিদ, রমিজ আলী, জসিম, জামাল, ইসমাইল, রফিজল, শাহেদ আলী, মনছুর, রিপন, শহীদুল ও জনু মিয়াসহ ট্রলারটি মুক্তিপণের দাবিতে নিয়ে যায়। অপর ৬ জেলের মধ্যে গুলিবিদ্ধ কামাল মাঝি, জেলে রহিম, কাওসার, নুরু, সালাউদ্দিন ও ফিরোজকে মহিপুরের অপর একটি মাছধরা ট্রলারে তুলে দেয়। ওই ট্রলারটিতেও ডাকাতরা লুটপাট চালিছে।
ডাকাতদের কবল থেকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, এফবি জসিম ছাড়াও মহিপুরের এফবি সাকিব ও এফবি ফয়সাল এবং বরগুনার এফবি মুসা ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে।
কুয়াকাটা আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন, র্যাবের একাধিক অভিযানে এবং ডাকাতদের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবন ও এর আশপাশের বঙ্গোপসাগর এলাকা এখন ডাকাতমূক্ত বলা যায়। কিন্তু কুয়াকাটার পূর্বপাশে ভোলা ও নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন চর ও বঙ্গোপসাগরে ডাকাতরা এখনও সক্রিয় রয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয় কেউ কিছু জানায়নি। এছাড়া ডাকাতির ঘটনা গভীর সাগরে এবং এটি মহিপুর থানা এলাকার ঘটনা নয়।
গুলিবিদ্ধ মাঝি কামালকে কুয়াকাটা বিশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কামাল মাঝির বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনের নুরাবাদ এলাকায়।
অপহরণের শিকার ট্রলারের মালিক ইয়াছিন মাঝি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা বারটার দিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরের ঢালচর এলাকায় জাল টেনে তোলার সময় জলদস্যুরা গুলি ছুড়ে ট্রলারে হামলা চালায়। এসময় কামাল মাঝি মাথা, বাহু ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়। জলদসুদ্যের মারধরে তিন জেলে আহত হয়।
এফবি সাকিব ট্রলারের জেলে কাওসার জানান, জলদস্যুরা তাদের ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আর গুলিবিদ্ধ কামাল মাঝিসহ ছয় জেলেকে ডাকাতির শিকার অন্য ট্রলার এফবি ফয়সালে উঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়। শুক্রবার বেলা বারোটায় তারা মৎস্য বন্দর আলীপুরে এসে পৌছায়। জলদস্যুরা সকল ট্রলারের জেলে এবং মাঝিদের মারধর করে ট্রলারে থাকা মাছ, জালসহ সকল রসদ নিয়ে গেছে। এসময় জলদস্যুরা তিনটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে দিয়েছে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফীন জানান, ডাকাতি ও জেলে অপহরণের ঘটনাটি পার্শ্ববর্তী ভোলা রেঞ্জের কোস্টগার্ড কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তবে সাগর উত্তাল থাকায় তাদের উদ্ধারে কোনো অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।